ইয়ামাল নন, গোটা স্পেনই ভাবনায়! সেমিফাইনালের আগে বার্তা ফরাসি ডিফেন্ডারের 

ফ্রান্স শিবিরে এখন একটাই বার্তা প্রতিপক্ষকে কখনও হালকা করে দেখা যাবে না। স্পেনের বিরুদ্ধে মহারণের আগে তাই কোনও নির্দিষ্ট ফুটবলারের উপর আলাদা করে নজর না দিয়ে গোটা দলকে নিয়েই পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন দিদিয়ের দেশঁর ফুটবলাররা। ফরাসি রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা ইব্রাহিমা কোনাতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের কাছে স্পেন মানেই একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী দল, যাদের মোকাবিলা করতে হলে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে।
স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল এবারের বিশ্বকাপে অসাধারণ ফুটবল উপহার দিয়েছেন। গোলসংখ্যা খুব বেশি না হলেও তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতা বারবার প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছে। তবু কোনাতে মনে করেন, শুধু ইয়ামালকে আটকাতে পারলেই স্পেনকে হারানো যাবে না। কারণ স্প্যানিশ দলে একাধিক ফুটবলার রয়েছেন, যারা যে কোনও মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তাই ফরাসি শিবিরের প্রস্তুতি একক কোনও খেলোয়াড়কে ঘিরে নয়, বরং সমগ্র স্প্যানিশ দলের খেলার ধরনকে মাথায় রেখেই। কোনাতে জানিয়েছেন, ভয় পেলে বড় ম্যাচ জেতা যায় না। স্পেনের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নামার আগে আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তিনি মনে করেন, ফ্রান্স যদি নিজেদের স্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারে, তা হলে জয় সম্ভব। তবে তার জন্য শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং দলগত সমন্বয় বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে গত দুই দশকে ফ্রান্স ধারাবাহিক সাফল্যের নজির গড়েছে। একাধিকবার ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি দু’বার বিশ্বসেরার মুকুটও জিতেছে তারা। এবারও ফাইনালে পৌঁছতে পারলে ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় যোগ হবে। কিন্তু অতীতের পরিসংখ্যান বা সম্ভাব্য রেকর্ড নিয়ে ভাবতে রাজি নন কোনাতে। তাঁর মতে, অতীতের গৌরব বর্তমান ম্যাচে কোনও প্রভাব ফেলে না। এখন একমাত্র লক্ষ্য সামনের চ্যালেঞ্জে সফল হওয়া। ফ্রান্সের আক্রমণভাগও যথেষ্ট শক্তিশালী। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। তাঁর গতি ও গোল করার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের রক্ষণকে সবসময় চাপে রাখে। পাশাপাশি উসমান দেম্বেলও ধারাবাহিকভাবে গোল করে চলেছেন। ফলে আক্রমণে ফ্রান্সের বিকল্পের অভাব নেই। অন্যদিকে স্পেনও এই বিশ্বকাপে দুর্ভেদ্য রক্ষণ গড়ে তুলেছে। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ১ গোল হজম করায় তাদের আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে। তাই দুই ইউরোপীয় শক্তির এই লড়াইয়ে সামান্য ভুলও বড় মূল্য চুকিয়ে দিতে পারে।  ফ্রান্সের কাছে এই ম্যাচ শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, বরং দলগত শক্তি ও মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − eleven =