আসানসোল : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের নির্দেশের পর, শুক্রবার আসানসোল বাজার এলাকায় বেআইনি জবরদখল উচ্ছেদে ব্যাপক অভিযান চালাল প্রশাসন। রাহা লেন থেকে শুরু করে গির্জা মোড় পর্যন্ত রাস্তা ও ফুটপাত জুড়ে গজিয়ে ওঠা বেআইনি দোকান ও স্থায়ী-অস্থায়ী কাঠামো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালীন যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আসানসোল বাজার এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যানজট থেকে শহরবাসীকে রেহাই দিতে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত সুগম করতে রাস্তা ও ফুটপাতের সমস্ত বেআইনি দখলদারি অবিলম্বে হঠাতে হবে।
মন্ত্রীর এই নির্দেশের পরই বৃহস্পতিবার রাতে আসানসোল পুর নিগমের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হয়। পুর প্রশাসনের তরফে মাইকে ঘোষণা করে ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছিল, শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে থাকা সমস্ত বেআইনি দোকানপাট যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘোষণা মতো, শুক্রবার সকাল ১১টার পর থেকেই আসানসোল পুর প্রশাসন পুরোদমে অ্যাকশনে নামে। রাহা লেন থেকে গির্জা মোড় পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানগুলি সরানোর কাজ শুরু হয়। বুলডোজারের সাহায্যে ভেঙে ফেলা হয় একাধিক অস্থায়ী কাঠামো। গোটা এলাকাকে সম্পূর্ণ জবরদখল মুক্ত করার চেষ্টা চালায় প্রশাসন।
যদিও প্রশাসনের এই আকস্মিক অভিযানে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, দোকান সরানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় মাইকিং করে ঘোষণা করার পর এদিন সকালেই বুলডোজার নিয়ে হাজির হন আধিকারিকরা। এর ফলে অনেক ব্যবসায়ী তাঁদের জিনিসপত্র পর্যন্ত সুরক্ষিতভাবে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাননি, যার জেরে তাঁদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বর্ষার মরশুমে দোকান গোছানোর জন্য আরও কিছুটা সময় দেওয়া উচিত ছিল বলেও দাবি করেন তাঁরা।
অন্যদিকে, পুর প্রশাসনের দাবি—শহরকে যানজট মুক্ত করা, পথচারীদের জন্য ফুটপাত খালি করা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখার লক্ষ্যেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান জারি থাকবে বলে প্রশাসনের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

