মহুয়া মৈত্রের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের

কলকাতা : পুলিশের উপস্থিতিতেই তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ওপর ডিম ও গোবর ছোঁড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। এই আবহে কৃষ্ণনগরের সাংসদের পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন সিপিআই(এম)-এর প্রবীণ নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।

দলের প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে এই হামলার কড়া ভাষায় নিন্দা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, মহুয়া মৈত্র তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন, কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই ধরনের বর্বরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য লেখেন, “মহুয়া মৈত্র আমার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি একজন নির্বাচিত লোকসভা সদস্য। আমার জানা মতে, তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি বা দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। বুধবার যেভাবে তাঁকে হেনস্থা ও অপমান করা হয়েছে, তা একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজের পক্ষে অত্যন্ত লজ্জাজনক। সভ্য সমাজের প্রতিটি মানুষের এই ধরনের বর্বরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া উচিত।”

উল্লেখ্য, গত বুধবার দুপুরে নদিয়া জেলার কালীগঞ্জে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে দলের একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠক করছিলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বৈঠক চলাকালীন আচমকাই একদল বিক্ষোভকারী কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হয়ে ডিম ও গোবর ছুঁড়তে শুরু করে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা সাংসদকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিকর মন্তব্যও করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মহুয়া মৈত্র দলীয় কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলা থেকে ফেসবুক লাইভ করেন। সেই লাইভ ভিডিওতে তিনি নিজের দলেরই একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এদিকে, এই ঘটনার পর তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তাঁর সংসদীয় সহকর্মীর ওপর হওয়া হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এই কাপুরুষোচিত হামলার পেছনে বিজেপির হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তোলেন তিনি।

যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনায় তাঁদের দলের জড়িতে থাকার তত্ত্ব সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন। পালটা দাবি করে তিনি বলেন, এই ঘটনার পেছনে বিজেপির কোনো ভূমিকা নেই; বরং তৃণমূল কংগ্রেসেরই ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট কর্মীরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 5 =