তৃণমূলের “বিজেপিকরণ”-এর আশঙ্কা প্রকাশ বাবুল সুপ্রিয়র

কলকাতা : তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট শেয়ার করে পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ কটাক্ষ করেছেন। দলবদল, নেতাদের রাজনৈতিক আনুগত্যের পরিবর্তন এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে বাড়তে থাকা ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তিনি তীব্র অথচ কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সেই বিবৃতির কথা উল্লেখ করে বাবুল সুপ্রিয় এই পোস্টটি করেন, যেখানে শমীকবাবু বলেছিলেন যে বিজেপির “তৃণমূলীকরণ” হতে দেওয়া হবে না। এর প্রেক্ষিতেই বাবুল প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলার রাজনীতিতে কি তবে উল্টে “তৃণমূলের বিজেপিকরণ” ঘটছে?

রাজনৈতিক দলগুলিতে ক্রমাগত নেতাদের আসা-যাওয়া নিয়েও পোস্টে কড়া ব্যঙ্গ করেছেন বাবুল। তিনি লিখেছেন, কখনও তৃণমূলের নেতারা বিজেপিতে যাচ্ছেন, আবার কখনও বিজেপির নেতারা তৃণমূলে ফিরছেন; যার ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে এটা বোঝাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে কে আসলে কোন দলে আছেন। এই পোস্টে তিনি বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার নাম উল্লেখ করে বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণকে

দুর্নীতি ও দলবদলের সংস্কৃতি নিয়ে সুর চড়িয়ে বাবুল সুপ্রিয় বলেন, যদি কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট বা অত্যাচারের অভিযোগ থাকে, তবে আইন অনুযায়ী তাঁর শাস্তি হওয়া উচিত। শুধুমাত্র দল পরিবর্তন করলেই কারও ভাবমূর্তি আচমকা “ধোয়া তুলসী পাতা”-র মতো পবিত্র হয়ে যেতে পারে না। এই বিষয়ে সমস্ত রাজনৈতিক দলের জন্যই সমান মাপকাঠি অবলম্বন করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিজের পোস্টের শেষে বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে তিনি “বিজে-মূল” (বিজেপি-তৃণমূল) আখ্যা দিয়েছেন। তিনি উপহাসের ছলে লেখেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে যেন দীর্ঘদিন ধরে যারা রাজ্যে তৃতীয় রাজনৈতিক বিকল্পের স্বপ্ন দেখছিলেন, তাঁদের সেই ইচ্ছা এবার পূরণ হতে চলেছে।

বর্তমানে বাবুল সুপ্রিয়র এই ফেসবুক পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে এবং রাজনৈতিক মহলে এটি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সমর্থক এবং বিরোধী উভয় পক্ষই এই পোস্টটিকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 4 =