আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম দিনেই ভারতের দাপট, সেঞ্চুরিতে উজ্জ্বল রাহুল ও গিল

মুলানপুর টেস্টের প্রথম দিন থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিল ভারত। প্রত্যাশামতোই তুলনামূলক দুর্বল আফগানিস্তান বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে আধিপত্য দেখালেন ভারতীয় ব্যাটাররা। অধিনায়ক শুভমান গিল এবং সহ-অধিনায়ক কেএল রাহুলের দুরন্ত শতরানের পাশাপাশি সাই সুদর্শন ও ঋষভ পন্থের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে ভর করে দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৬৮ রান।
যদিও এই একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবুও ভারতীয় দলের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব কম ছিল না। সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকার পর লাল বলের ক্রিকেটে ফের মানিয়ে নেওয়া এবং কিছু ক্রিকেটারের ফর্ম যাচাই করার সুযোগ ছিল এই ম্যাচে। সেই পরীক্ষায় প্রথম দিনের শেষে বেশিরভাগ ব্যাটারই সফল।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল। তবে শুরুতেই ভারত একটি ধাক্কা খায়। ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল মাত্র ২৪ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। নতুন বল কিছুটা সুইং করছিল এবং আফগান বোলাররা প্রথম ঘণ্টায় শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং করেন। কিন্তু সেই চাপ দ্রুত কাটিয়ে ওঠেন কেএল রাহুল।
অভিজ্ঞ এই ব্যাটার শুরুতে ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়েন এবং পরে ক্রমশ হাত খুলে খেলতে শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে তৃতীয় নম্বরে নামা সাই সুদর্শনের জুটি ভারতের ইনিংসের ভিত মজবুত করে। দ্বিতীয় উইকেটে দু’জনে মিলে ১৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন।
সাই সুদর্শন দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচকদের আস্থার কেন্দ্রে থাকলেও তাঁকে নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। সেই সব প্রশ্নের জবাব তিনি দিলেন ব্যাট হাতেই। দুর্দান্ত টাইমিং ও পরিণত ব্যাটিংয়ের সাহায্যে ৮১ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন তিনি। শতরান থেকে বঞ্চিত হলেও তাঁর ইনিংস ভারতের বড় স্কোরের ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
অন্যদিকে কেএল রাহুল নিজের অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে ১৬৫ বল মোকাবিলা করে শতরান পূর্ণ করেন। এটি তাঁর টেস্ট কেরিয়ারের ১২তম শতরান। সেঞ্চুরি করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি আউট হয়ে গেলেও ততক্ষণে ভারতের ইনিংস শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে গেছে।
রাহুল ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে একসঙ্গে দেখা যায় অধিনায়ক শুভমান গিল এবং ঋষভ পন্থকে। দু’জনেই আফগান বোলারদের উপর চাপ বাড়াতে থাকেন। গিল অত্যন্ত পরিণত ইনিংস খেলে নিজের টেস্ট কেরিয়ারের দশম শতরান পূর্ণ করেন। দিনের শেষে তিনি ১০৩ রানে অপরাজিত ছিলেন এবং দ্বিতীয় দিনের শুরুতে বড় ইনিংস খেলার সুযোগ থাকবে তাঁর সামনে।
ঋষভ পন্থের জন্যও এই ম্যাচ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ভূমিকা এবং দলে অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। সেই পরিস্থিতিতে তিনি ব্যাট হাতে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স উপহার দেন। দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় পন্থ ৫০ রানে অপরাজিত ছিলেন।
প্রথম দিনের শেষে বলা যায়, ব্যাট হাতে ভারত সম্পূর্ণভাবে ম্যাচের দখল নিয়েছে। গিল ও পন্থ এখনও ক্রিজে থাকায় দ্বিতীয় দিনে ভারতের লক্ষ্য থাকবে আরও বড় স্কোর গড়ে আফগানিস্তানকে চাপে ফেলে দেওয়া। বর্তমানে ম্যাচে এগিয়ে রয়েছে ভারতই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − 5 =