শেষ ম্যাচ হেরেও টেবিল শীর্ষে আরসিবি ! জিতেও টপ টু ফিনিশ হলো না হায়দরাবাদের

আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হায়দরাবাদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে কার্যত অসহায় আত্মসমর্পণ করল বেঙ্গালুরু। যদিও ৫৫ রানের এই হার শেষ পর্যন্ত বিরাট কোহলিদের খুব বেশি ক্ষতি করতে পারেনি। বরং দিনের শেষে স্বস্তির হাসিই দেখা গেল বেঙ্গালুরু শিবিরে। কারণ, পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান তারা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে প্রথম কোয়ালিফায়ারে হারলেও ফাইনালে ওঠার জন্য আরও একটি সুযোগ পাবে তারা।
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকে হায়দরাবাদের ব্যাটাররা। বিশেষ করে অভিষেক শর্মা, ঈশান কিশন এবং হাইনরিখ ক্লাসেন বেঙ্গালুরুর বোলারদের উপর একপ্রকার ঝড় তুলেছিলেন। শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও পরে ভয়ঙ্কর রূপ নেন ঈশান। তবে তার আগে ব্যাট হাতে তাণ্ডব শুরু করেছিলেন অভিষেক। মাত্র ২০ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। নবম ওভারে সুযশ শর্মা তাকে ফিরিয়ে দিলেও ততক্ষণে ম্যাচের ভিত গড়ে গিয়েছিল।
অভিষেক ফিরে যাওয়ার পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন ঈশান কিশন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন হাইনরিখ ক্লাসেন। দু’জনে মিলে নিয়মিত চার-ছয়ের বন্যা বইয়ে দেন। বিশেষ করে জশ হেজলউডের এক ওভারে তিনটি ছয় ও একটি চার মেরে ২৭ রান তোলেন ক্লাসেন। পরে তিনিও দ্রুত অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। মাত্র ২৪ বলে ৫১ রানের ইনিংসে ছিল দু’টি চার ও পাঁচটি ছয়। অন্যদিকে ঈশান শেষ পর্যন্ত অপরাজিত না থাকলেও ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত লড়ে যান। ৪৬ বলে ৭৯ রানের দুরন্ত ইনিংসে ছিল আটটি চার ও তিনটি ছয়। তাদের দাপটে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২৫৫/৪ তোলে হায়দরাবাদ।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা খারাপ হয়নি বেঙ্গালুরুর। ফিল সল্ট ও জেকব বেথেলের অনুপস্থিতিতে ওপেনিংয়ে নামানো হয়েছিল বেঙ্কটেশ আয়ারকে। সেই সিদ্ধান্ত শুরুতে সফলও হয়। প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তিনি। মাত্র ৪৪ রান করলেও তার ইনিংস বেঙ্গালুরুকে দ্রুত গতি এনে দেয়। তবে তিনি আউট হওয়ার পর চাপে পড়ে যায় দল। বিরাট কোহলিও বড় রান করতে পারেননি। ১৫ রান করে ফিরে যান তিনি। দেবদত্ত পডিক্কলও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
এরপর অধিনায়ক রজত পাটীদার ও ত্রু«ণাল পাণ্ড্য কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। দু’জনে মিলে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়লেও ক্রমশ বাড়তে থাকা রানরেট বেঙ্গালুরুর আশা কমিয়ে দেয়। পাটীদার ৫৬ রান করে আউট হন। শেষদিকে ত্রু«ণাল অপরাজিত ৪১ রান করেন। টিম ডেভিডও কিছুটা লড়াই চালালেও দলকে জেতাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২০০/৪ স্কোরে থামে বেঙ্গালুরুর ইনিংস।
এই জয়ের ফলে হায়দরাবাদও ১৮ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। তবে রানরেট কম থাকায় তারা তৃতীয় স্থানেই শেষ করে। অন্যদিকে হারলেও শীর্ষস্থান ধরে রেখে বড় সুবিধা আদায় করে নিল বেঙ্গালুরু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 5 =