সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর জন্য ভারতের প্রাথমিক দল ঘোষণা করলেন প্রধান কোচ ক্রিস্পিন ছেত্রী। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই দলে জায়গা পেয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের একাধিক তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলার। এবারের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে গোয়ার মার্গাওয়ে। আগামী ২৫ মে থেকে শুরু হয়ে টুর্নামেন্ট চলবে ৬ জুন পর্যন্ত।
ভারতীয় দলে গোলরক্ষক হিসেবে রাখা হয়েছে পন্থোই চানু, রিবানসি জামু ও শ্রেয়া হুডাকে। রক্ষণভাগে আছেন অস্টম ওরাঁও, জুলি কিশান, নির্মলা দেবী, পূর্ণিমা কুমারী, রঞ্জনা চানু, সরিতা ইউমনামদের মতো ফুটবলাররা। মাঝমাঠে দায়িত্ব সামলাবেন আভেকা সিং, জসোদা মুন্ডা, প্রিয়দর্শিনী সেল্লাদুরাই, প্রিয়াঙ্কা দেবী, সানফিদা নংরুম, সংগীতা বাসফোর ও শিলকি দেবীরা। আক্রমণভাগে নজর থাকবে গ্রেস ডাংমেই, করিশ্মা শিরভইকর, মালবিকা, মনিষা কল্যাণ, পিয়ারি জাক্সা, রিম্পা হালদার ও সৌম্যা গুগুলোথদের উপর।
ভারতীয় মহিলা লিগ শেষ হওয়ার পর থেকেই বেশিরভাগ ফুটবলার গোয়ায় পৌঁছে গিয়েছেন। সোমবার কলকাতায় ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ শেষ হয়েছে। তবে ইস্টবেঙ্গল-এর ফুটবলাররা বুধবার শিবিরে যোগ দেবেন। কারণ মঙ্গলবার পর্যন্ত চলেছে কলকাতা মহিলা ফুটবল লিগ। ভারতীয় মহিলা দলের প্রধান কোচ ক্রিস্পিন ছেত্রী জানিয়েছেন, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে দল নিয়ে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী। তাঁর মতে, “দলে অভিজ্ঞতার সঙ্গে তরুণ ফুটবলারদের দারুণ সমন্বয় রয়েছে। বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ভালো ছন্দে রয়েছে, যা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। টুর্নামেন্ট ছোট হলেও প্রতিটি ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও ইতিবাচক ফুটবল খেলতে চাই। মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচ সহজ হবে না, তবে আমরা প্রস্তুত।” পাশাপাশি তিনি জানান, বিদেশে খেলা ফুটবলাররা যোগ দিলে দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং লক্ষ্য একটাই—চ্যাম্পিয়ন হওয়া।
বিদেশে খেলা দুই ফুটবলারের জন্য অবশ্য কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে ভারতীয় শিবিরকে। ডেনমার্কের নেস্টভেড এইচজির হয়ে খেলা আভেকা সিং সপ্তাহের শেষের দিকে দলে যোগ দেবেন। অন্যদিকে পেরুর ক্লাব আলিয়াঞ্জা লিমার হয়ে খেলা মনিষা কল্যাণ ফিফার আন্তর্জাতিক উইন্ডো শুরু হওয়ার পর, অর্থাৎ ১ জুনের পর শিবিরে যোগ দিতে পারবেন। এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত রয়েছে গ্রুপ ‘বি’-তে। ২৫ মে ভারতের প্রথম ম্যাচ মালদ্বীপের বিরুদ্ধে। এরপর ৩১ মে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে ভারত। দুই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দল গঠন ও প্রস্তুতি নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী কোচিং স্টাফ। নতুন ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের মিশ্রণে শক্তিশালী দল তৈরি করে টুর্নামেন্টে ভালো ফল করার লক্ষ্যই এখন ভারতের সামনে।

