কলকাতার সরকারি হাসপাতালের সুরক্ষায় নতুন নির্দেশিকা জারি

কলকাতা : কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হাসপাতালে মোতায়েন পুলিশকর্মীদের জন্য বেশ কিছু বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং হাসপাতালের সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশকর্মীদের প্রাথমিক দায়িত্ব হবে। এর পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বরে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা তৈরি না হয়, তার জন্য প্রতিনিয়ত নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর আগে কলকাতার আর.জি. কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এর পর থেকেই হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ক্রমাগত প্রশ্ন উঠছিল। সেই সময় জুনিয়র ও সিনিয়র চিকিৎসকদের একটি অংশ হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে আন্দোলনও করেছিলেন।

বর্তমানে রাজ্যে সরকার গঠনের পর বিজেপি হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো মজবুত করার কথা বলছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এসএসকেএম হাসপাতাল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এর পর কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা বিভিন্ন থানার সঙ্গে হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। সেই আলোচনার পরেই এই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হাসপাতালের মূল প্রবেশদ্বারে কড়া চেকিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতাল চত্বরে আসা রোগী, তাঁদের আত্মীয়-স্বজন এবং যানবাহনের চলাচল সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। হাসপাতাল চত্বরে যাতে কোনো দালালের প্রবেশ না ঘটে, তাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালগুলিতে বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাও মোতায়েন থাকে। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য একটি স্পষ্ট ডিউটি রোস্টার তৈরি করতে এবং সেই অনুযায়ী ডিউটি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ডিউটি শুরু হওয়ার আগে নিরাপত্তা কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে এবং ডিউটি শেষে রিপোর্ট নেওয়ার ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওপিডি এবং জরুরি বিভাগে প্রায়শই রোগী ও তাঁদের পরিজনদের ভিড় থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং হাসপাতাল চত্বরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

এছাড়া অগ্নিকাণ্ড বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মতো যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে হেল্পলাইন নম্বরগুলি স্পষ্টভাবে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে অবিলম্বে কন্ট্রোল রুম বা স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

হাসপাতালগুলিতে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে এই নির্দেশিকায়। সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা যাতে সঠিকভাবে কাজ করে এবং হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলি যাতে ক্যামেরার নজরদারিতে থাকে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। হাসপাতালে মোতায়েন বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মী এবং অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত তথ্যের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেস বা তালিকা তৈরি করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাতের বেলা হাসপাতালের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে নিয়মিত টহলদারি এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথাও এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + 8 =