বিকাশ ভবনে গণ-ইস্তফার ঢল, পদত্যাগ করলেন পর্ষদ সভাপতি ও এসএসসি চেয়ারম্যান

কলকাতা : নবান্নে ক্ষমতার পালাবদল হতেই বিকাশ ভবনে শুরু হয়েছে গণ-ইস্তফার পালা। সোমবার স্কুল শিক্ষা সচিবের কাছে নিজেদের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-এর চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার। নতুন সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের যে ইঙ্গিত দিয়েছিল, এই জোড়া ইস্তফা তাকেই আরও ত্বরান্বিত করল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

তৃণমূল জমানার শেষ কয়েক বছরে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছিল শিক্ষা দফতর। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায় এবং আদালতের নির্দেশে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। সেই টালমাটাল সময়েই এসএসসির দায়িত্ব নিয়েছিলেন সিদ্ধার্থ মজুমদার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁর অবসরের কথা থাকলেও তৎকালীন সরকার তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধি করেছিল। অন্যদিকে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর পর্ষদের হাল ধরেছিলেন অধ্যাপক রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। গত সপ্তাহেই মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এরপরই এদিন তিনি মুখ্যসচিবের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন।

রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের বার্তা দিয়েছেন। পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে ব্যাপক রদবদলের পর এবার শিক্ষা দফতরের ‘খোলনলচে’ বদলে ফেলাই লক্ষ্য নবান্নের। সূত্রের খবর, কেবল শীর্ষ পদ নয়, এসএসসির আঞ্চলিক কার্যালয়ের একাধিক চেয়ারপার্সনও পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ-সহ অন্য জায়গায় যাঁদের চাকুরির বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পরেও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল, তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মহলের মতে, স্বচ্ছ নিয়োগ এবং দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা দফতর গড়াই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্যপূরণে সম্পূর্ণ নতুন মুখ নিয়ে এসে স্বচ্ছতার বার্তা দিতে চাইছে নতুন সরকার। পর্ষদ ও কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই সরে যাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর নজর এখন বিকাশ ভবনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সব মিলিয়ে, বাংলায় শিক্ষা প্রশাসনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 5 =