মাত্র ১৫৫ রানের লক্ষ্য—টি-টোয়েন্টি ম্যাচে যা খুব বড় কিছু নয়। তবুও শুরুতে এমন লড়াই গড়ে তুলেছিল দিল্লি, যেন ম্যাচটা সহজ হবে না একেবারেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব হিসেব উল্টে দিলেন একাই সঞ্জু স্যামসন। তাঁর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সামনে দিল্লির প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে, আর ১৫ বল বাকি থাকতেই ৮ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় প্রতিপক্ষ।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দিল্লি। তবে শুরুটা আশানুরূপ হয়নি। ওপেনার পাথুম নিসঙ্ক ও কে এল রাহুল দ্রুত ফিরে যান, যথাক্রমে ১৯ ও ১২ রান করে। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। এরপর মিডল অর্ডারে নীতীশ রানা, করুণ নায়ার ও অক্ষর প্যাটেল—কেউই নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। রান তোলার গতি কমে যায়, আর ৬৯ রানের মধ্যেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দিল্লি।
এই কঠিন সময়ে কিছুটা লড়াই করেন ট্রিস্টান স্টাবস ও রিজভি। স্টাবস ৩৮ রান করেন, আর রিজভি অপরাজিত থেকে ৪০ রান যোগ করেন। তাঁদের মধ্যে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি দিল্লিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়। শেষদিকে আশুতোষ শর্মার ছোট কিন্তু কার্যকরী ইনিংস—মাত্র ৫ বলে ১৪ রান—দলকে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দেয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৫ রান তোলে দিল্লি।
এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই কিছুটা চাপে পড়ে প্রতিপক্ষ। অধিনায়ক রুতুরাজ মাত্র ৬ রান করে আউট হন, তখন স্কোরবোর্ডে ৩.৫ ওভারে ২৪ রান। পাওয়ার প্লে-তে মাত্র ৪৪ রান ওঠে, যা দিল্লির বোলারদের দারুণ শুরুর প্রমাণ। উর্বিল প্যাটেল কিছুটা আগ্রাসী ব্যাটিং করলেও বেশি সময় টিকতে পারেননি। ফলে ম্যাচে উত্তেজনা তৈরি হয়।
কিন্তু সেই উত্তেজনার মাঝেই শান্ত, ধৈর্যশীল এবং পরিকল্পিত ব্যাটিংয়ে ইনিংস গড়ে তোলেন সঞ্জু স্যামসন। শুরুতে তিনি সময় নিয়ে খেলেন, স্ট্রাইক ঘুরিয়ে রাখেন এবং ধীরে ধীরে ইনিংসকে গভীরে নিয়ে যান। একসময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন ৯ বলে মাত্র ২ রান আসে—চাপ বাড়ছিলই। কিন্তু সেই চাপকে উড়িয়ে দেন সঞ্জুই। নটরাজনের এক ওভারে পরপর বড় শট মেরে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে অপরাজিত ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন সঞ্জু। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৬টি ছক্কা। তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেন কার্তিক শর্মা, যিনি ৪১ রান করেন। দু’জনে মিলে সহজেই দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ছোট লক্ষ্য হলেও দিল্লি লড়াইটা জমিয়ে তুলেছিল। কিন্তু সঞ্জুর অসাধারণ ব্যাটিং সেই লড়াইকে একাই শেষ করে দেয়।

