চলতি আইপিএলের শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি কলকাতা নাইট রাইডার্সের। টানা ছয় ম্যাচে হার দলের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছিল। সমর্থকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছিল, আর দলও যেন দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। তবে সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে নাইটরা। শেষ দুই ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালস এবং লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে জিতে তারা আবার লড়াইয়ে ফেরার বার্তা দিয়েছে। এই দুই জয়ের ফলে দল কিছুটা স্বস্তি পেলেও, সমর্থকদের মনে এখন নতুন কৌতূহল—কবে মাঠে নামবেন দলের অন্যতম দামি পেসার মাথিশা পাথিরানা?
শ্রীলঙ্কার এই তরুণ পেসার চোটের কারণে টুর্নামেন্টের শুরুতে খেলতে পারেননি। তবে তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। শুধু যোগ দেওয়াই নয়, নিয়মিত অনুশীলনেও অংশ নিচ্ছেন এবং নেটে ভালো ছন্দে বোলিং করছেন বলেই জানা যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচেই কি তাঁর অভিষেক হতে চলেছে?
এই বিষয়ে দলের বোলিং কোচ টিম সাউদি কিছুটা সতর্ক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাথিরানা প্রস্তুত থাকলেও তাঁকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি নির্ভর করছে ম্যাচের পরিস্থিতি এবং দলের ভারসাম্যের উপর। সাউদির কথায়, কোনও খেলোয়াড়ের ফর্ম বা প্রস্তুতি যতই ভালো হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত একাদশ গঠনের ক্ষেত্রে টিম কম্বিনেশনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পায়, কারণ নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি বিদেশি খেলোয়াড়কে দলে রাখা যায় না।
বর্তমানে কেকেআর যে দল নিয়ে পরপর দুই ম্যাচে জিতেছে, সেই দলেই খুব বেশি পরিবর্তন আনতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। জয়ী দল ভাঙতে অনীহা থাকাই স্বাভাবিক। তাই পাথিরানাকে সুযোগ দিতে গেলে কাউকে না কাউকে বাদ দিতেই হবে, আর সেটাই এখন সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তের জায়গা। এই কারণেই কোচিং স্টাফ তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না।
তবে পরিসংখ্যান বলছে, সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে পাথিরানার পারফরম্যান্স মন্দ নয়। তিনি এই দলের বিরুদ্ধে তিনটি ম্যাচে খেলেছেন এবং তিনটি উইকেট নিয়েছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, হেনরিখ ক্লাসেনকে তিনি আইপিএলে একাধিকবার আউট করেছেন। এই তথ্য নিঃসন্দেহে কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্টকে ভাবাবে, কারণ ক্লাসেন বর্তমানে হায়দরাবাদের অন্যতম বড় শক্তি।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ আকর্ষণীয় জায়গায় দাঁড়িয়ে। একদিকে রয়েছে ফর্মে থাকা একটি জয়ী দল, অন্যদিকে দলে যোগ দেওয়া এক প্রতিভাবান পেসার, যিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। শেষ পর্যন্ত কেকেআর কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা জানা যাবে ম্যাচের দিনই। এখন দেখার বিষয়, হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই কি নাইট জার্সিতে পাথিরানার প্রথম উপস্থিতি দেখা যাবে, নাকি আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে সমর্থকদের।

