আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোন রান নিরাপদ, তা এখন আর নিশ্চিত করে বলা যায় না। দিল্লির মাঠে সেই সত্যিই আবার প্রমাণ করল পাঞ্জাব কিংস। আইপিএলের এক অবিশ্বাস্য রানবন্যার ম্যাচে ২৬৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ইতিহাস গড়ল তারা। দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যাটাররা যে স্কোর তুলেছিলেন, তা সাধারণত জয়ের জন্য যথেষ্ট বলেই ধরা হয়। কিন্তু পাঞ্জাবের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে সেই পাহাড়সম রানও ছোট হয়ে গেল।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দিল্লির হয়ে দুরন্ত ইনিংস খেলেন অধিনায়ক কেএল রাহুল। শুরু থেকেই তিনি আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন এবং পাঞ্জাব বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন। অন্য প্রান্তে নীতীশ রানাও সমান তালে রান তুলতে থাকেন। এই দুই ব্যাটারের জুটিতে দিল্লির ইনিংস এগিয়ে যায় ঝড়ের গতিতে। নীতীশ ৪৪ বলে ৯১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। রাহুলও শতরান করে দলকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যান। তাঁদের ২২০ রানের জুটি আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা পার্টনারশিপ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে দিল্লি তোলে ২৬৪ রান।
এত বড় লক্ষ্য সামনে থাকলেও পাঞ্জাবের দুই ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য ও প্রভসিমরন সিং শুরু থেকেই বুঝিয়ে দেন তারা হার মানতে আসেননি। প্রথম বল থেকেই আক্রমণ শুরু করেন দু’জন। দিল্লির বোলাররা কোনও সুযোগই পাননি। পাওয়ার প্লে-র ছয় ওভারে পাঞ্জাব বিনা উইকেটে তুলে ফেলে ১১৬ রান, যা আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাওয়ার প্লে স্কোর।
প্রিয়াংশ ১৭ বলে ৪৩ রান করে আউট হলেও ততক্ষণে দলকে দারুণ ভিত দিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর প্রভসিমরন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন। মাত্র ২৬ বলে ৭৬ রানের দুরন্ত ইনিংসে তিনি ৯টি চার ও ৫টি ছক্কা মারেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে ম্যাচ পুরোপুরি পাঞ্জাবের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। যদিও কয়েকটি দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফেরে।
এই সময় দায়িত্ব নেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। চাপের মুহূর্তে তিনি শান্ত থেকে ম্যাচ শেষ করার কাজটি করেন অসাধারণ দক্ষতায়। দিল্লির ফিল্ডাররা কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করায় শ্রেয়স আরও সুবিধা পান। তিনি অপরাজিত ৭১ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। পাঞ্জাব ৭ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
এই ম্যাচে দুই দলের মিলিত রান দাঁড়ায় ৫২৯, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিরল ঘটনা। সবচেয়ে বড় কথা, ২৬৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় তুলে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়ার নতুন রেকর্ড গড়ল পাঞ্জাব কিংস। এর আগের রেকর্ডও ছিল তাদের দখলে। এই ম্যাচ আবারও দেখিয়ে দিল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন কোনও লক্ষ্যই আর নিরাপদ নয়।

