ব্যর্থ সুদর্শনের শতরান ! সেঞ্চুরি না পেয়েও ম্যাচের রাজা বিরাট

চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে শুক্রবার দেখা গেল এক অদ্ভুত দৃশ্য। প্রতিপক্ষ ব্যাটারের ঝকঝকে সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ম্যাচের শেষে দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিরাট কোহলি। শতরান না পেলেও তাঁর ৮১ রানের দুরন্ত ইনিংসই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে এনে দিল গুরুত্বপূর্ণ জয়। দলের প্রয়োজনে শুরু থেকেই দায়িত্ব নিয়ে খেললেন তিনি, আর সেই কারণেই ব্যক্তিগত মাইলফলকের থেকে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিলেন।
ঘরের মাঠে আগের ম্যাচে হারের পর বেশ চাপেই ছিল বেঙ্গালুরু শিবির। ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা চলছিল জোরকদমে। তার উপর দলে কিছু পরিবর্তন এবং কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিও চিন্তার কারণ ছিল। এমন পরিস্থিতিতে গুজরাটের বিরুদ্ধে নামার আগে অনেক প্রশ্ন ঘুরছিল দলকে ঘিরে। কিন্তু সেই সব সংশয়ের জবাব দিলেন কোহলি নিজের ব্যাটে।
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক রজত পাতিদার। গুজরাটের হয়ে ওপেন করতে নেমে সাই সুদর্শন দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। মাত্র ৫৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে তিনি দলের বড় রানের ভিত গড়ে দেন। গত মরশুমে অসাধারণ ফর্মে থাকা এই ব্যাটার এবারের প্রতিযোগিতায় এখনও ছন্দে ফিরতে পারেননি, কিন্তু এদিন সেই অপেক্ষার অবসান হল। যদিও তাঁকে সঙ্গ দিতে পারেননি অন্য ব্যাটাররা। অধিনায়ক শুভমান গিল কিছুটা চেষ্টা করলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। জস বাটলারও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শেষদিকে জেসন হোল্ডারের ঝোড়ো ক্যামিওর সুবাদে গুজরাট ২০০ রানের গণ্ডি পার করে ২০৬ রানে পৌঁছয়।
বেঙ্গালুরুর বোলারদের মধ্যে অভিজ্ঞ ভুবনেশ্বর কুমার আবারও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। চার ওভারে মাত্র ৩১ রান দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি। চাপের সময়ে তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিং দলকে ভরসা দেয়।
২০৬ রানের লক্ষ্য এই মাঠে অসম্ভব নয়, কিন্তু এবারের চিন্নাস্বামীর পিচ আগের মতো একতরফা ব্যাটিং সহায়ক নয়। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বেঙ্গালুরু। জ্যাকব বেথেল দ্রুত ফিরলেও এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন কোহলি ও দেবদত্ত পাড়িক্কল। দু’জনে মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ১১৭ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়েন। দেবদত্ত মাত্র ২৭ বলে ৫৫ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন।
তবে আসল নিয়ন্ত্রণ ছিল কোহলির হাতেই। কখনও সিঙ্গল-ডাবল, কখনও বড় শট—সব মিলিয়ে নিখুঁত ব্যাটিংয়ে গুজরাট বোলারদের চাপে রাখেন তিনি। সেঞ্চুরি প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। কিন্তু দলের রান তোলার গতি বাড়াতে গিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন ৮১ রানে। ব্যক্তিগত শতরান হাতছাড়া হলেও তখন ম্যাচ অনেকটাই বেঙ্গালুরুর নিয়ন্ত্রণে।
কোহলি আউট হওয়ার পর কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। দ্রুত দু’টি উইকেট পড়ে যাওয়ায় গুজরাট সামান্য আশা দেখেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কোনও অঘটন ঘটতে দেয়নি বেঙ্গালুরু। নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছে জয় নিশ্চিত করে তারা।
এই জয়ে বেঙ্গালুরুর আত্মবিশ্বাস অনেকটাই ফিরল। অন্যদিকে টানা দুই ম্যাচ হেরে গুজরাটের প্লে-অফের রাস্তা আরও কঠিন হয়ে গেল। আর কোহলি আবারও বুঝিয়ে দিলেন, শতরান না করেও কীভাবে ম্যাচের সেরা নায়ক হওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 5 =