গিল ঝড়ে আহমেদাবাদেও ডুবল নাইটরা

ম্যাচ বদলাচ্ছে, ভেন্যু বদলাচ্ছে, কিন্তু কলকাতা নাইট রাইডার্সের ভাগ্য যেন একই জায়গায় আটকে রয়েছে। ইডেন গার্ডেন্স থেকে আহমেদাবাদ—যেখানেই নামুক, ফল একটাই, হার। শুক্রবার গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে আরও একবার হতাশ করল কেকেআর। পাঁচ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্টে নিজেদের দুরবস্থা আরও স্পষ্ট করে দিল অজিঙ্কা রাহানের দল।‌ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় কলকাতা। পরিকল্পনা ছিল বড় রান তুলে চাপ তৈরি করা। কিন্তু শুরুতেই ভেঙে পড়ে সেই ভাবনা। অধিনায়ক রাহানে প্রথম ওভারেই মহম্মদ সিরাজের বলে আউট হয়ে ফেরেন। পরের ওভারেই কাগিসো রাবাদা ফিরিয়ে দেন অঙ্গকৃষ রঘুবংশীকে। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নাইটরা। দলে সুযোগ পাওয়া টিম সেইফার্ট কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন। তবে ১৯ রানের বেশি এগোতে পারেননি তিনিও। সেই সময় দলের ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন ক্যামেরন গ্রিন। প্রথম পাঁচ ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন অস্ট্রেলিয়ার এই অলরাউন্ডার। যদিও ইনিংসের মাঝে একাধিকবার সুযোগ পেয়েছেন, তবু সেই জীবনদান কাজে লাগিয়ে লড়াকু ব্যাটিং করেন তিনি। ধীরে শুরু করলেও পরে হাত খুলে খেলেন গ্রিন এবং ৭৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন।
তবে অন্য প্রান্তে কেউ সেভাবে সঙ্গ না দেওয়ায় কলকাতার রান খুব বড় জায়গায় পৌঁছায়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে কেকেআর তোলে ১৮০ রান। এই স্কোর লড়াই করার মতো হলেও বোলারদের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হত। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থতা ধরা পড়ে। রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে গুজরাট। প্রথম ওভারেই অনুকূল রায়ের বলে তিনটি ছক্কা মেরে চাপ বাড়িয়ে দেন ব্যাটাররা। যদিও সাই সুদর্শনকে দ্রুত ফেরান সুনীল নারিন, তাতে ম্যাচের গতি বদলায়নি। পরে বরুণ চক্রবর্তী জস বাটলারকে ফিরিয়ে কিছুটা আশা জাগান। কিন্তু গুজরাতের ইনিংসের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন অধিনায়ক শুভমান গিল। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করে কলকাতার বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন তিনি। বড় রান না পাওয়ার আক্ষেপ এদিন মিটিয়ে দেন গিল। মাত্র ৫০ বলে ৮৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন তিনি। চারটি চার ও চারটি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস গুজরাটকে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৯.৪ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় গুজরাত টাইটান্স। এই জয়ে তারা পয়েন্ট তালিকায় আরও শক্ত জায়গায় পৌঁছে গেল। অন্যদিকে কেকেআরের দুর্দশা আরও বাড়ল। গ্রিনের ব্যাটে রান ফিরলেও দলের জয়ের মুখ দেখা এখনও অধরাই রয়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − eight =