আইপিএলের চলতি মরসুমে কলকাতা নাইট রাইডার্সের অবস্থা ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। পাঁচ ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন লিগের একমাত্র দল, যারা এখনও জয়ের মুখ দেখেনি। শুধু হারই নয়, অধিকাংশ ম্যাচেই দলকে লড়াইয়ের জায়গায় দেখা যায়নি। ইডেনে লখনৌর বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছাড়া কোথাও জয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেনি নাইটরা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে, আর প্রশ্ন উঠছে দলের পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব নিয়ে। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ম্যাচে ডাগআউটে কোচ অভিষেক নায়ার ও অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানের গম্ভীর আলোচনা অনেকের নজর কাড়ে। ধারাভাষ্যকাররাও বুঝিয়ে দেন, দলের ভিতরে সব কিছু ঠিকঠাক চলছে না। রাহানে ম্যাচের পরে বলেন, দল জিতছে না বলে ইতিবাচক থাকতে হবে। কিন্তু এই মন্তব্যে সমর্থকদের ভরসা ফেরেনি। কারণ মাঠে দলের পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাস বা স্পষ্ট পরিকল্পনার ছাপ দেখা যাচ্ছে না।কোচিং স্টাফে অভিজ্ঞ ও বড় নামের অভাব নেই। শেন ওয়াটসন, ডোয়েন ব্র্যাভো, আন্দ্রে রাসেলের মতো ব্যক্তিত্ব রয়েছেন সাপোর্ট স্টাফে। তবু প্রশ্ন উঠছে, তাঁদের দক্ষতা আদৌ সঠিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে কি না। বিশেষ করে দলের ব্যাটিং, ফিনিশিং এবং ম্যাচ পরিস্থিতি সামলানোর জায়গায় উন্নতি না হওয়ায় এই সমালোচনা আরও জোরালো হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে দল নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিয়ে। ফিন অ্যালেন টানা ব্যর্থ হলেও তাঁকে ওপেনার হিসেবে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে টিম সেইফার্টকে এখনও সেভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। আবার অজিঙ্ক রাহানে পাওয়ার প্লেতে তুলনামূলক ভালো খেললেও তাঁকে নিচের দিকে নামিয়ে অন্য পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়েছে। সুনীল নারিনকে হঠাৎ ওপেন করতে পাঠানোর সিদ্ধান্তও অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, নির্দিষ্ট কম্বিনেশন এখনও খুঁজে পায়নি দল। বোলিং বিভাগেও একই সমস্যা। প্রথম ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করেও ব্লেসিং মুজারাবানিকে নিয়মিত খেলানো হয়নি। স্পিনে বরুণ চক্রবর্তী ও নারিনের উপর নির্ভরতা আগের মতোই রয়েছে। বিকল্প পরিকল্পনা নেই বলেই অভিযোগ। অনুকূল রায় সুযোগ পেলে ভালো করলেও তাঁকে যথেষ্ট ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে প্রতিপক্ষ যদি মূল স্পিনারদের সামলে নেয়, তখন কেকেআরের হাতে অন্য রাস্তা থাকে না।
ব্যাটিংয়ে তরুণদের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে না বলে সমর্থকদের ক্ষোভ রয়েছে। অন্য দলগুলো প্রতি বছর নতুন ভারতীয় প্রতিভা তুলে আনলেও কেকেআর সেই পথে হাঁটছে না। বেঞ্চে থাকা কিছু ক্রিকেটারকে সুযোগ দিলে হয়তো নতুন শক্তি পাওয়া যেত। কিন্তু দল একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে। এই অবস্থায় কোচ অভিষেক নায়ারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ব্যাটিং কোচ হিসেবে তাঁর সাফল্য থাকলেও প্রধান কোচ হিসেবে তিনি এখনও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি বলে মত অনেকের। দলের ভিতরেও অসন্তোষ বাড়ছে বলে শোনা যাচ্ছে। এখনই পরিবর্তন আনা না গেলে প্লে-অফের আশা দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। নাইটদের সামনে তাই সময় খুব কম, আর ভুল করার সুযোগ আরও কম।

