চিপকে ৩২ রানে চেন্নাইয়ের কাছে হেরে এখন লাস্টবয় কেকেআর !

আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ব্যর্থতার তালিকায় আরও একটি হতাশাজনক অধ্যায় যোগ হল মঙ্গলবার। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ৩২ রানে হেরে কার্যত নিজেদের দুর্বলতাকেই আরও স্পষ্ট করে দিল অজিঙ্কে রাহানের দল। ব্যাটিং, বোলিং থেকে শুরু করে নেতৃত্ব—তিন বিভাগেই এদিন পিছিয়ে দেখা গেল কেকেআরকে। মরসুমের মাঝপথেই দলটির পারফরম্যান্স নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় কেকেআর। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল, তা প্রথম ছয় ওভারেই স্পষ্ট হয়ে যায়। পাওয়ার প্লেতে চেন্নাই অনায়াসে তুলে ফেলে ৭২ রান। কেকেআরের বোলাররা শুরু থেকেই লাইন-লেংথ খুঁজে পাননি। নতুন বলে কোনও চাপই তৈরি করতে পারেননি তারা। ফলে চেন্নাইয়ের ব্যাটাররা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন।
সঞ্জু স্যামসন ৪৮ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। তাঁর সঙ্গে আয়ুশ মাত্রে ৩৮ এবং ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ৪১ রানের ঝোড়ো ক্যামিও চেন্নাইকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয়। ১৬ ওভার পর্যন্ত রানরেট ১০-এর আশেপাশে ছিল। যদিও শেষ দিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে কেকেআর, তবু চেন্নাই ৫ উইকেটে ১৯২ রান তুলে নেয়। চিপকের মন্থর পিচে এই লক্ষ্য যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ছিল।
জবাবে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে নাইটরা। ওপেন করতে নামানো হয় সুনীল নারিনকে। তিনি ১৭ বলে ২৪ রান করলেও তাঁর স্বাভাবিক বিধ্বংসী মেজাজ দেখা যায়নি। অন্যদিকে নিয়মিত ওপেনার ফিন অ্যালেন আবারও ব্যর্থ হয়ে মাত্র ১ রান করে ফেরেন। এরপর অধিনায়ক রাহানে ২২ বলে ২৮ রান করলেও সেই ইনিংসে গতি ছিল না। রঘুবংশী ২৭ রান করলেও বড় কিছু করতে পারেননি।
মাঝের ওভারগুলোতেই ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায় কেকেআরের। ভাইস-ক্যাপ্টেন রিঙ্কু সিং ১২ বলে মাত্র ৬ রান করে উইকেট ছুড়ে দেন। বড় দামে কেনা ক্যামেরন গ্রিন প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন। ফলে জয়ের আশা কার্যত সেখানেই শেষ হয়ে যায়।
শেষদিকে রভম্যান পাওয়েল ও রমণদীপ সিং কিছুটা লড়াই করলেও তা শুধুই ব্যবধান কমানোর প্রয়াস ছিল। শেষ পর্যন্ত ১৬০ রানে থামে কেকেআরের ইনিংস। চেন্নাই ৩২ রানে জয় তুলে নেয়। টানা ব্যর্থতায় এখন নাইট শিবিরে চাপ আরও বাড়লো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 − six =