সঞ্জু ৫৬ বলে ১১৫ রান, চেন্নাইয়ের জয়, পরপর ২ ম্যাচ হার দিল্লির

চেন্নাই : টানা তিন হারের ধাক্কায় দিশেহারা ছিল চেন্নাই সুপার কিংস। দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা, চোট সমস্যা আর মহেন্দ্র সিং ধোনির অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে চাপ ছিল তুঙ্গে। তবে সেই কঠিন সময়ে দলের ত্রাতা হয়ে উঠলেন সঞ্জু স্যামসন। তাঁর দুরন্ত সেঞ্চুরির (৫৬ বলে ১১৫ রান) উপর ভর করে শনিবার ঘরের মাঠে দিল্লিকে হারিয়ে অবশেষে জয়ের রাস্তায় ফিরল চেন্নাই।
টসে জিতে দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল প্রথমে চেন্নাইকে ব্যাট করতে পাঠান। শুরুতে অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ায় কিছুটা চাপে পড়ে যায় দল। কিন্তু তারপরই ইনিংসের হাল ধরেন সঞ্জু। তরুণ আয়ুষ মাত্রের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি চেন্নাইয়ের ইনিংস গড়ে তোলেন। ধীরে শুরু করলেও পরে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন সঞ্জু।
মাঠের চারদিকে শট খেলতে শুরু করেন তিনি।
তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাস, নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা। শেষ পর্যন্ত তিনি ৫৬ বলে ১১৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৫টি চার এবং ৪টি ছক্কায়। অন্যদিকে আয়ুষও দুর্দান্ত সঙ্গ দেন। তিনি ৩৬ বলে ৫৯ রান করে দলের স্কোরকে বড় জায়গায় পৌঁছে দেন। শেষদিকে শিবম দুবের ঝোড়ো ২০ রানে চেন্নাই ২০ ওভারে তোলে ২১২ রান।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিল্লি শুরুটা ভালোই করেছিল। ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা দ্রুত রান তুলছিলেন। ২৪ বলে ৪১ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন তিনি। কেএল রাহুলও সাবধানে এগোচ্ছিলেন, কিন্তু ১৮ রানে ফিরে যান। এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। একই ওভারে দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে ফিরিয়ে দিল্লিকে চাপে ফেলে দেন খলিল আহমেদ।
এরপর একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে দিল্লি। সমীর রিজভি, অক্ষর প্যাটেল, ডেভিড মিলার, আশুতোষ শর্মারা কেউই বড় রান করতে পারেননি। বিশেষ করে অক্ষর প্যাটেলের উইকেটটি ছিল উল্লেখযোগ্য। সরফরাজ খানের অসাধারণ ক্যাচ মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। তাঁর দুরন্ত ফিল্ডিং দর্শকদেরও উজ্জীবিত করে তোলে।
শেষদিকে ত্রিস্টান স্টাবস একাই লড়াই চালিয়ে যান। ৩৮ বলে ৬০ রানের সাহসী ইনিংস খেলেও দলকে জেতাতে পারেননি তিনি। অন্য প্রান্তে কেউ সঙ্গ না দেওয়ায় দিল্লির ইনিংস থেমে যায় ১৮৯ রানে।
চেন্নাইয়ের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন জেমি ওভারটন। তিনি মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। অংশুল কম্বোজ নেন ২টি উইকেট। এছাড়া খলিল আহমেদ, গুরপ্রীত সিং ও নূর আহমেদ একটি করে উইকেট তুলে নেন।
এই জয়ে তিন ম্যাচ পর আবার জয়ের মুখ দেখল চেন্নাই। ধোনি না থাকলেও দল যে লড়াই করতে জানে, তা প্রমাণ করলেন সঞ্জু স্যামসন। তাঁর ব্যাট থেকে এমন ইনিংস এলে চেন্নাইয়ের আত্মবিশ্বাস যে কয়েকগুণ বাড়বে, তা বলাই যায়। এখন সমর্থকদের অপেক্ষা, ধোনি ফিরলে দল আরও কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠবে ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × one =