বাঁকুড়া : পশ্চিমবঙ্গে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । শনিবার বাঁকুড়ার ওন্দা ও ছাতনায় নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী -কে একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।
এদিন জেলায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল চরমে। একদিকে অমিত শাহের জনসভা, অন্যদিকে বড়জোড়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা এবং বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী-র রোড শো ঘিরে জুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ওন্দা বিধানসভার রামসাগর ফিসারি ময়দানে সভা থেকে অমিত শাহ বলেন, “আমরা গোটা পশ্চিমবঙ্গ থেকে মমতার সিন্ডিকেটকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করব। এই সিন্ডিকেটটি মমতা ও তাঁর ভাইপোর শাসনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে, যা বাংলার মানুষের জীবন রক্ত চুষছে।” তিনি আরও দাবি করেন, “বাঁকুড়া গত ১৫ বছর ধরে অবহেলিত। এখন সেই হিসাব নেওয়ার সময় এসেছে।”
কৃষি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাজ্যের কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম পাচ্ছেন না। মমতা দিদির সিদ্ধান্তের কারণে বাংলার আলু ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় যেতে পারছে না। ফলে আলুচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।” বিজেপি ক্ষমতায় এলে আলুর অবাধ রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে এবং চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নির্বাচনী হিংসা প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, “নির্বাচন-সংক্রান্ত হিংসায় ৩০০-র বেশি বিজেপি কর্মী নিহত হয়েছেন। তৃণমূলের গুন্ডারা মনে করছে তাদের কোনও শাস্তি হবে না। কিন্তু বিজেপি সরকার গঠিত হলেই এর হিসাব চুকিয়ে দেওয়া হবে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডারা ঘরের ভিতরে থাকুক, নইলে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।” পাশাপাশি তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং বিজেপি নিশ্চিত করবে যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন।
কেন্দ্রের রেশন প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, “মোদীজি ৫ কেজি চাল দিচ্ছেন, কিন্তু তার মধ্যে ১ কেজি তৃণমূলের গুন্ডারা চুরি করছে।” সভায় মুখ্যমন্ত্রীকে ‘হীরক রানী’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এই হীরক রানীকে এবার বিদায় জানানোর সময় এসেছে।” এই মন্তব্যে সভায় উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
সিন্ডিকেট ইস্যুতে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ‘পিসি-ভাইপোর সিন্ডিকেট’ চলছে এবং সাধারণ মানুষকে নির্মাণ সামগ্রী কিনতেও তৃণমূলের সিন্ডিকেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সিন্ডিকেট রাজ সম্পূর্ণরূপে শেষ করা হবে বলে দাবি করেন তিনি।
মহিলা নিরাপত্তা নিয়েও তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে অমিত শাহ বলেন, “একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা নেই।” পাশাপাশি আরজিকর ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, এই ঘটনায় রাজ্য আন্তর্জাতিক স্তরে লজ্জিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যে শিল্পায়ন থমকে রয়েছে এবং বেকারত্ব বাড়ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে শিল্প গড়ে তোলা হবে, বেকারদের মাসিক ভাতা দেওয়া হবে এবং মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করা হবে।
ওন্দার সভা শেষে ছাতনার ঝাঁটিপাহাড়িতে দ্বিতীয় সভায় আদিবাসী এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি। আদিবাসীদের অবহেলার অভিযোগ তুলে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাঁদের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-কে নিয়ে তৃণমূল নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এর জবাব দিতে হলে তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।
শেষে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে অমিত শাহ জানান, সব অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুয়ো নথি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।

