ফাইনাল খেলার ৪৮ ঘন্টা আগে পেয়েছিলেন খবরটা। গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রয়াত হয়েছেন দিদি-জামাইবাবু। তবুও আমেদাবাদে গতকাল তিনি, ঈশান কিষান শুধু মাঠেই নামেননি, দুরন্ত হাফ সেঞ্চুরি করে দলকে জেতানোয় বড় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। এই অসময়ে জিতেছে তাঁর দলও। নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বিশাল মার্জিনে হারিয়ে তৃতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে ভারত। ঈশান ছাড়াও ভাল খেলেছেন অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন। তাঁদের ব্যাটেই বিশ্বজয়ের শিরোপা ভারতের মাথায়।
শুক্রবার মৃত্যু হয়েছিল ঈশানের দিদি ও তাঁর জামাইবাবুর। সেই খবর পেয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন নি ঈশানের বাবা। খেলা সত্ত্বেও বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন ঈশান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফাইনাল ম্যাচেই খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। ফাইনালের আগে ঈশানের বাবা প্রণব সঙ্গাব্দমাধ্যমকে জানান,”আমরা কেউই বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যাব না। ঈশানও বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল। কিন্তু ও দেশের হয়েই খেলবে।” ম্যাচের আগে যথেষ্ট মনমরা ছিলেন তিনি। সতীর্থরা এসে উদ্বুদ্ধ করে যান তাঁকে। ব্যাটিং অনুশীলনের পর অনেকে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। যদিও, মাঠে এর প্রভাব পড়তে দেননি ঈশান। গতকাল ২৫ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেললেন তিনি। ব্যাটিং ছাড়া ফিল্ডিংয়েও ৩টি ক্যাচ ধরেন ঈশান। ম্যাচের পর দিদি-জামাইবাবুকে ইনিংস উৎসর্গ করেছেন এই ভারতীয় ব্যাটার।
অথচ বেশ কয়েক মাস আগেও গল্পটা ছিল অন্যরকম। ভারতীয় দলের সঙ্গে যেন কয়েক লক্ষ যোজন দূরত্ব বেড়ে গিয়েছিল ঈশানের। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে মানসিক অসুস্থতার কারণে ক্রিকেট থেকে বিরতি নিয়েছিলেন ঈশান। সেই সময়েই তাঁকে দেখা যায় দুবাইতে। ২০২৪ সালের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর রঞ্জি ট্রফি খেলতে চান নি ঈশান। এই ঘটনার পরেই ২০২৪ সালে তাঁর সঙ্গে বার্ষিক চুক্তিভঙ্গ করেছিল বিসিসিআই।

