কলকাতা : কলকাতার রেড রোডে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে নাম না করে কেন্দ্র সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের পদবি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন যে, তিনি বাংলায় নিজের পদবি ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’ এবং ইংরেজিতে ‘ব্যানার্জি’ লেখেন, এতে সমস্যার কিছু থাকা উচিত নয়। যাঁরা এই সামান্য পার্থক্যটুকু বোঝেন না, তাঁদের নিন্দা করা ছাড়া তাঁর আর কিছু করার নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তোলেন যে, আদিবাসী এবং তফসিলি জাতি-জনজাতিভুক্ত মানুষের নাম সুকৌশলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে তাঁদের বাবা-মায়ের জন্ম শংসাপত্র কেন চাওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। এই প্রসঙ্গে নিজের বাড়ির এক আদিবাসী পরিচারিকার উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান যে, তাঁর পরিবারের সব সদস্যকে তলব করা হয়েছে। এমনকি প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকেও তাঁর বাবা-মায়ের বয়সের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন মমতা।
নিজের ভাষণে তীব্র কটাক্ষের সুরে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন যে, এখন থেকে কি মানুষ প্রেম করবে কি না, বিয়ে করবে কি না কিংবা সন্তান জন্ম দেবে কি না—সেটাও কি সরকার ঠিক করে দেবে? ব্যঙ্গের সুরে তিনি বলেন, এরপর হয়তো সন্তানদের জন্মের জন্যও অনুমতি নিতে হবে। বিশেষ করে ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে তিনি জানান যে, তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই পদ্ধতির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপত্তি জানিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি কেবল রাজনীতি নয় বরং সাধারণ মানুষের জীবন ও অধিকারের কথা বলছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে, একজন মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। বর্তমানে তাঁদের ‘কৌরব পক্ষ’ এবং ‘দানবদের’ বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। কেন্দ্রের শাসকদলের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আজ আপনারা ক্ষমতায় আছেন বলে এসব করছেন, কিন্তু যেদিন ক্ষমতা থাকবে না, সেদিন আপনাদের পালিয়ে যাওয়ার পথ থাকবে না।

