কলকাতায় করোনা আক্রান্ত ১০ বছরের বালক, হাসপাতালে চলছে চিকিৎসা

কলকাতা : কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়ে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তাঁকে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ওই বালকের শনিবার তীব্র জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরীক্ষার জন্য তার লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হলে রিপোর্ট কোভিড পজিটিভ আসে। এরপরই তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়।

বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ড. সাহেলী দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, শিশুটি গত ৩-৪ দিন ধরে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছিল। এক্স-রে পরীক্ষায় তার ডানদিকের ফুসফুসে নিউমোনিয়ার লক্ষণ ধরা পড়ে। ভাইরোলজিক্যাল টেস্টে তার শরীরে সার্স-কভ-২ সংক্রমণের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। যেহেতু করোনা একটি ভাইরাসঘটিত রোগ, তাই অ্যান্টিবায়োটিকের পরিবর্তে তাকে নেবুলাইজেশন সহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য চিকিৎসায় রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে শিশুটির মাকেও আইসোলেশনে রাখা হয়েছে এবং তাঁরও কোভিড পরীক্ষা করার প্রস্তুতি চলছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বালকের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল এবং ২৪ ঘণ্টা তার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনা নিয়ে আমজনতাকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের মতে, বর্ষাকালে শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রকোপ স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। দেশের কিছু অংশে কোভিডের নতুন ঘটনা সামনে এলেও, আক্রান্তদের বেশিরভাগের মধ্যেই মৃদু উপসর্গ দেখা যাচ্ছে এবং হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজনীয়তা কম পড়ছে।

উল্লেখ্য, দেশে ফের একবার করোনা সংক্রমণের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা যাচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশে গত ২৬ জুন থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে ১২ জনের শরীরে কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়েছে এবং অন্যান্য কো-মর্বিডিটি (গুরুতর অসুস্থতা) থাকা ৪ জন আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর এই সংক্রমণের জন্য দায়ী নতুন রূপটি শনাক্ত করতে নমুনা পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি -তে পাঠিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ওমিক্রনের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট “সিকাডা”-র সম্ভাব্য প্রভাবের আশঙ্কা করছেন।

একইভাবে পুণেতেও গত ১০ দিনে কোভিডের নতুন কেস সামনে এসেছে। চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ রোগীর মৃদু উপসর্গ থাকলেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ এই বর্ষার মরশুমে কোভিড-১৯-এর পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ এবং এইচ১এন১ সংক্রমণের ঘটনাও বাড়ছে। তাই জ্বর, গলা ব্যথা, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা না করে অবিলম্বে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 − six =