শ্বাসনালী থেকে কৌটো বের করেও হল না শেষরক্ষা, হাসপাতালের ‘রেফার রোগ’-এর বলি নিউটানের একরত্তি!

কলকাতা: গলা থেকে কাজলের কৌটো বের হলেও, হল না শেষ রক্ষা। এসএসকেএম-এ মারা গেল আট মাসের রীতেশ বাগদি। এই মৃত্যু ফের প্রশ্ন তুলল, কবে হাসপাতালের ‘রেফার রোগ’ বন্ধ হবে? পরিবারের আক্ষেপ, যদি বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালের পর এনআরএস একরত্তিকে ফিরিয়ে না দিত, তাহলে হয়তো চিকিৎসায় এত দেরি হত না। হয়তো বেঁচে যেত জীবনটা।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। খেলতে খেলতে কাজলের কৌটো গিলে ফেলেছিল ছোট্ট রীতেশ। তারপরই তীব্র শ্বাসকষ্ট। ছেলেকে নিয়ে শুধু এই হাসপাতাল আর ওই হাসপাতাল করেছেন বাবা-মা। শেষে এসএসকেএম-এ শিশুটরি চিকিৎসা হয়। ল্যারিঙ্গোস্কপি করে ডাক্তাররা কৌটো শ্বাসনালী থেকে বেরও করেন। তখন শ্বাস নিতে পারলেও, রাতে তার মৃত্যু হয়। এসএসকেএম সূত্রে খবর, শিশুটিকে যখন এনআরএসে নিয়ে যাওয়া হয় তখনই দেহে অক্সিজেনের মাত্রা ৫০ শতাংশে নেমে গিয়েছিল। এসএসকেএমে আনার পর অক্সিজেনের মাত্রা মাপা যাচ্ছিল না। ল্যারিঙ্গোস্কোপি করে কাজলের বাক্স বার করা মাত্র শিশুটি শ্বাস নিতে শুরু করেছিল। তবে রাতে সে মারা যায়। চিকিৎসকদের অনুমান, অক্সিজেন অনেকটা নীচে নেমে যাওয়ায়, শিশুটির মস্তিষ্কে সম্ভবত অক্সিজেন ঠিকমতো যায়নি। যার জেরে এমনটা হতে পারে।
এই ঘটনায় কাঠগড়ায় শহরের দুই হাসপাতাল। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউটাউনের বাসিন্দা সোমনাথ বাগদি তাঁর ৮ মাসের ছেলেকে প্রথমে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে রীতেশকে রেফার করা হয় এনআরএসে। সেইসময় তার প্রবল শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এনআরএসের জরুরি বিভাগ থেকে ইএনটি, শিশুশল্য বিভাগে দৌড়েছিলেন বাবা। এই করতে গিয়ে নষ্ট হয় প্রায় দেড় ঘণ্টা। তারপর শিশুটিকে এসএসকেএমে রেফার করা হয়। সকাল ১০ টার সময় যখন এমার্জেন্সিতে রীতেশকে নিয়ে আসা হয় তখন তার অবস্থা একেবারেই খারাপ।
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, এনআরএস-এর মতো বড় হাসপাতালে ল্যারিঙ্গোস্কোপির পরিকাঠামো নেই, এমনটা হতে পারে না। তাহলে কেন তাকে ফেরানো হল? এভাবে চিকিৎসা না করে মরণাপন্ন শিশুকে রেফার করা ঠিক হয়নি বলছেন চিকিৎসকদেরই একাংশ।
কলকাতার বড় হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে এর আগেও রোগী রেফার নিয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই বিসি রায় হাসপাতাল, আরজিকর-এর বিরুদ্ধে ৪ দিনের শিশুকে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। টিটাগড়ের বাসি¨া আনোয়ারা বিবি স্যালাইন, নাকে নল আটকানো শিশুকে নিয়ে দৌড়ে বেরিয়েছিলেন। শেষে একরত্তিকে ভর্তি নেয় এনআরএস।
২০২০ সালের জুলাই মাসে একের পর এক হাসাপাতাল ফিরিয়ে দেওয়ায় স্ট্রেটােরই মৃত্যু হয়েছিল বছর ২৬-এর অশোক রুইদাসের। পরিবারের অভিযোগ ছিল, এসএসকেএম, শম্ভুনাথ পণ্ডিত ও মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল তাঁদের ছেলেকে ফিরিয়ে দিয়েছে। এবার আট মাসের রীতেশের মর্মান্তির মৃত্যু প্রশ্ন তুলল, এর দায় কার?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × two =