টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিষেক লগ্নেই ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল জিম্বাবোয়ে। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছিল আফ্রিকার দেশটি। সময় বদলেছে, বদলেছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ভাষা ও গতিও। আরও আগ্রাসী, আরও প্রযুক্তিনির্ভর হয়েছে আধুনিক ক্রিকেট। কিন্তু অস্ট্রেলিয়াকে সামনে পেলেই জিম্বাবোয়ের চোখে যে আগুন জ্বলে ওঠে, সেই গল্পটা রয়ে গিয়েছে একই। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফের অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বড়সড় অঘটন ঘটাল সিকান্দর রাজার দল। ২৩ রানের ঐতিহাসিক জয় তুলে নিল জিম্বাবোয়ে।
শুক্রবার প্রেমাদাসার স্লো উইকেটে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেই আগ্রাসনের সুর বেঁধে দেন ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানাশে মারুমনি। পাওয়ার প্লে-তেই অজি বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন দু’জনে। মারুমনি ২১ বলে ৩৫ রান করে মার্কাস স্টয়নিসের বলে ফিরলেও ততক্ষণে জিম্বাবোয়ের রান পৌঁছে গিয়েছে ৬১-তে। এরপর রায়ান বার্লের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৭০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন বেনেট। তবে মাঝের ওভারে এসে রানের গতি অনেকটাই কমে যায়। প্রেমাদাসার ধীরগতির উইকেটে অজি বোলাররা উইকেট তুলতে পারলেও রান আটকাতে পারেননি পুরোপুরি। নির্ধারিত ২০ ওভারে জিম্বাবোয়ে থামে ১৬৯ রানে। ওপেন করতে নেমে ৫৬ বলে অপরাজিত ৬৪ রান করেন বেনেট। শেষদিকে সিকান্দর রাজা ১৩ বলে ২৫ রান করে ইনিংসে গতি আনেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টয়নিস ও ক্যামেরন গ্রিন একটি করে উইকেট নিলেও হতাশ করেন জাম্পা, ডারউইশ ও এলিসের মতো তারকারা।
১৭০ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মিচেল মার্শহীন অস্ট্রেলিয়া। জস ইংলিশ ফেরেন মাত্র ৮ রানে। অধিনায়ক ট্রাভিস হেডও ব্যর্থ—১৭ রানের বেশি করতে পারেননি। গ্রিন ও টিম ডেভিড শূন্য রানে আউট হওয়ায় ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় অজি শিবির। সেখান থেকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও বেন ডরশুইস। কিন্তু ম্যাক্সওয়েলের ব্যাটে আধুনিক টি-টোয়েন্টির ছন্দ ধরা পড়েনি। ৩২ বলে ৩১ রান করে রায়ান বার্লের বলে বোল্ড হন ৩৭ বছরের তারকা। পঞ্চম উইকেটে ৮৭ রানের জুটি ভাঙতেই যেন অজি সমর্থকদের আশাও ভেঙে যায়।
ম্যাট রেনশ ৪৪ বলে ৬৫ রান করলেও দল জয়ের কাছাকাছি না পৌঁছনোয় সেই ইনিংসের গুরুত্ব কমে যায়। হেড, ম্যাক্সওয়েল ও রেনশ ছাড়া বাকি ব্যাটারদের রান পাশাপাশি রাখলে মোবাইল নম্বরের মতো দেখায়। শেষ পর্যন্ত ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্সের দাপুটে বোলিংয়ে ১৪৬ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। মুজারাবানি ১৭ রানে ৪ উইকেট এবং ইভান্স ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন। বার্ল ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা নেন একটি করে উইকেট। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে আবারও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আগুন ঝরাল জিম্বাবোয়ে।

