নিজের অবসরের কারণ জানালেন যুবরাজ সিং

২০১৯ বিশ্বকাপের সময়েই কার্যত ব্যাট-প্যাড তুলে রেখেছিলেন যুবরাজ সিং। আনুষ্ঠানিক অবসর ঘোষণা তার আগেই এলেও, সেই বিশ্বকাপ তাঁকে আবার আলোচনায় ফিরিয়ে এনেছিল। ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের পরদিনই যুবরাজ জানিয়েছিলেন— “ক্রিকেট, তোমায় আজকে ছুটি দিলাম।” তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, বিশ্বকাপের দলে জায়গা না পাওয়ার হতাশাতেই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। কিন্তু সাত বছর পরে সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যের আসল কারণ নিজেই স্পষ্ট করলেন ভারতের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনার।
প্রাক্তন টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার সঙ্গে একটি পডকাস্টে যুবরাজ অকপটে স্বীকার করেছেন, তিনি আর ক্রিকেট উপভোগ করছিলেন না। তাঁর কথায়, “যখন আমি আর আনন্দ পাচ্ছিলাম না, তখন খেলে যাওয়ার মানে কী?” দীর্ঘ কেরিয়ারে দেশের হয়ে সব কিছু অর্জন করার পরও শেষের দিকে মানসিক ও শারীরিক চাপ তাঁকে ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছিল। সমর্থকদের সমর্থন ধীরে ধীরে কমছিল, আগের মতো শ্রদ্ধাও তিনি আর পাচ্ছিলেন না। একজন ক্রিকেটারের কাছে এই অনুভূতি যে কতটা যন্ত্রণার, তা যুবরাজের কথাতেই স্পষ্ট।
তিনি আরও বলেন, নিজেকে প্রমাণ করার আর কিছুই বাকি ছিল না তাঁর। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক ওভারে ছয় ছক্কা আজও ক্রিকেট ইতিহাসের অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। ২০১১ বিশ্বকাপে তো যুবরাজ সিংই ছিলেন ভারতের জয়ের মূল নায়ক—ব্যাট হাতে রান, বল হাতে উইকেট, আর ফিল্ডিংয়ে দুরন্ত পারফরম্যান্স। সে বিশ্বকাপকে ‘যুবরাজের বিশ্বকাপ’ বলা হলে একটুও অত্যুক্তি হয় না।
কিন্তু সময় বদলায়। ফর্ম, ফিটনেস আর টিম কম্বিনেশনের চাপে ধীরে ধীরে দলে জায়গা হারাতে থাকেন যুবরাজ। জাতীয় দলে ডাক পাওয়া অনিয়মিত হয়ে যায়। সেই সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়া স্বাভাবিক। যুবরাজ বুঝেছিলেন, নিজের সীমাবদ্ধতাকে অস্বীকার করে টিকে থাকার চেয়ে সম্মানের সঙ্গে সরে যাওয়াই ভালো। তাঁর ভাষায়, “যেদিন আমি থেমে গেলাম, সেদিনই আবার নিজেকে খুঁজে পেলাম।”
যুবরাজ সিংয়ের অবসর শুধুই একজন ক্রিকেটারের বিদায় নয়, এটি আত্মসম্মান, মানসিক সুস্থতা এবং জীবনের পরবর্তী অধ্যায় বেছে নেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত। দেশের জার্সিতে যিনি অগণিত ম্যাচ জিতিয়েছেন, তিনি নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চাননি। তাই থামলেন—আর সেই থামার মধ্যেই খুঁজে পেলেন নতুন যুবরাজকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 2 =