ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-এ বাংলার ক্রিকেটারদের উপস্থিতি বরাবরই আলোচনার বিষয়। দেশের অন্যতম বড় এই মঞ্চে যেখানে বিভিন্ন রাজ্যের তরুণ প্রতিভারা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করছেন, সেখানে বাংলার প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কম। প্রশ্ন উঠছে—কেন এই পরিস্থিতি?
বর্তমানে বাংলার হয়ে নিয়মিত আইপিএল-এ দেখা যায় ঋদ্ধিমান সাহা, মুকেশ কুমার, শাহবাজ আহমেদ কিংবা আকাশ দীপ-দের মতো ক্রিকেটারদের। মাঝে মধ্যে সুযোগ পান অভিমন্যু ঈশ্বরন-এর মতো প্রতিভারাও। কিন্তু সংখ্যার বিচারে বাংলা অনেকটাই পিছিয়ে মহারাষ্ট্র, গুজরাট বা তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যের তুলনায়।
প্রথম এবং সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে পরিকাঠামোর অভাব। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল-এর অধীনে কলকাতায় আধুনিক সুবিধা থাকলেও জেলার অনেক জায়গাতেই এখনও মানসম্মত পিচ, জিম বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অভাব রয়েছে। ফলে গ্রাসরুট স্তরে প্রতিভা তৈরি হলেও সঠিক পরিচর্যার অভাবে অনেকেই হারিয়ে যাচ্ছেন।
দ্বিতীয়ত, নির্বাচনের সুযোগ ও এক্সপোজারের অভাবও বড় কারণ। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি এখন মূলত নজর দেয় ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগ ও ট্রায়ালে পারফরম্যান্সের উপর। বাংলার অনেক ক্রিকেটার নিয়মিত জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ না পাওয়ায় স্কাউটদের নজরে আসতে পারেন না। এই জায়গায় অন্যান্য রাজ্যের ক্রিকেটাররা এগিয়ে।
তৃতীয়ত, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছুটা পিছিয়ে বাংলা। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ক্রিকেটের ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে টেস্ট ও একদিনের ফরম্যাট ঘিরে। ফলে আগ্রাসী ব্যাটিং বা ডেথ ওভারে বিশেষজ্ঞ বোলারের সংখ্যা তুলনামূলক কম। আধুনিক ক্রিকেটে এই দক্ষতাই আইপিএল-এ সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেয়।
প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলি-ও একাধিকবার বলেছেন, বাংলার ক্রিকেটারদের আরও আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক হতে হবে। তাঁর মতে, শুধুমাত্র টেকনিক নয়, ম্যাচ জেতানোর মানসিকতা গড়ে তোলাও জরুরি।
অন্যদিকে, ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মুকেশ কুমার কিংবা আকাশ দীপ-দের মতো পেসাররা আইপিএল-এ ভালো পারফরম্যান্স করে নজর কাড়ছেন। এতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রতিভার অভাব নয়, বরং সুযোগ, পরিকাঠামো এবং আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার অভাবই বাংলার ক্রিকেটারদের আইপিএল-এ কম উপস্থিতির প্রধান কারণ। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ হলে ভবিষ্যতে এই চিত্র বদলানো সম্ভব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

