রো – কো এর পর কি হবে ওডিআই ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ? উদ্বিগ্ন ভারতের প্রাক্তন তারকা স্পিনার !

বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা—ভারতীয় ক্রিকেটের দুই মহাতারকা—আগামী বছর অনুষ্ঠিত একদিনের বিশ্বকাপে খেলবেন, তা প্রায় নিশ্চিত। যদিও বিশ্বকাপের পর তাঁদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সম্ভাবনাও ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। ‘রো–কো’ ইতিমধ্যেই টেস্ট ও টি–টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং এখন শুধুমাত্র একদিনের ক্রিকেটেই ভারতের জার্সিতে মাঠে নামেন। তবে সেই যাত্রাও আর বড়জোর দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যেই শেষ হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন একদিনের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।
অশ্বিনের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) অতিরিক্ত বিশ্বকাপ আয়োজন করে একদিনের ক্রিকেটের গুরুত্ব ও আকর্ষণ নষ্ট করে দিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, আইসিসি অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যেই প্রায় প্রতিবছর একটি করে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে, যার ফলে মরতে বসেছে একদিনের ক্রিকেট। ২০২৭ বিশ্বকাপের পর আদৌ একদিনের ক্রিকেট টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। তিনি আরও বলেন, টেস্ট ক্রিকেটের একটি নির্দিষ্ট, নিবেদিত দর্শকগোষ্ঠী থাকলেও, একদিনের ক্রিকেটের ক্ষেত্রে তেমন স্থায়ী দর্শক আছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। এই প্রসঙ্গেই তিনি বিজয় হাজারে ট্রফিতে বিরাট ও রোহিতের খেলার কথা উল্লেখ করেছেন। দীর্ঘদিন পর ঘরোয়া একদিনের প্রতিযোগিতায় তাঁদের উপস্থিতি এক ধাক্কায় প্রতিযোগিতাকে জনপ্রিয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। জনমানসে টুর্নামেন্ট নিয়ে আগ্রহ ও আলোচনার মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। এর মাধ্যমে অশ্বিন বোঝাতে চেয়েছেন, ব্যক্তি কখনও খেলাধুলার থেকে বড় নয়, তবে কিছু ব্যতিক্রমী তারকার উপস্থিতি খেলার প্রাসঙ্গিকতা ও জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে পারে।
অশ্বিন আরও মনে করেন, বিরাট–রোহিত বা ধোনির মতো মহাতারকাদের অবসর নেওয়া একদিনের ক্রিকেটের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তাঁদের অনুপস্থিতিতে এই ফরম্যাটের জনপ্রিয়তা আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই তিনি আইসিসি–কে বার্তা দিয়েছেন, একদিনের বিশ্বকাপ চার বছরে একবার আয়োজন করা হোক, ঠিক ফুটবলের মতো। ফুটবলে যেমন প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা বা মেজর লিগ সকার সারা বছর চলে, আর বিশ্বকাপ চার বছরে একবার হয়, তেমন কাঠামো ক্রিকেটেও কার্যকর হতে পারে। তাঁর মতে, এতে একদিনের ক্রিকেটের গুরুত্ব, আকর্ষণ ও মর্যাদা আবারও বাড়বে এবং দর্শকদের মধ্যে ফরম্যাটটি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হবে।
পরিশেষে বলা যায়, একদিনের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ক্রিকেটীয় সূচির ভারসাম্য, মহাতারকাদের অবদান ও আইসিসি–র পরিকল্পনা—এই তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে এই ফরম্যাটের অস্তিত্ব ও জনপ্রিয়তা। যদি সঠিক কাঠামো ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে একদিনের ক্রিকেট আবারও তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 − 3 =