সুপার এইটে ভারতের পথ যে মোটেই মসৃণ হবে না, তা স্পষ্ট করে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ও জ়িম্বাবোয়ে। দুই দলের অধিনায়কই জানিয়ে দিয়েছেন—তারা বিশ্বকাপে অংশ নিতে নয়, শিরোপা জেতার লক্ষ্য নিয়েই নেমেছে। ফলে সুপার এইটে নামার আগেই ভারতকে কার্যত সতর্কবার্তা দিল তারা। গ্রুপ সি-তে চার ম্যাচের সব ক’টিতেই জিতে দাপট দেখিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কলকাতার ইডেনে শেষ ম্যাচে ইতালিকে হারানোর পর অধিনায়ক শাই হোপ স্পষ্ট বলেন, তাঁর দল বদলে গিয়েছে। আগের মতো শুধু বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের উপর নির্ভর নয়, এখন তারা আগ্রাসনের সঙ্গে বুদ্ধিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। হোপের কথায়, দলের প্রত্যেক সদস্য নিজের ভূমিকা জানে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে শিখেছে। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে শুরুতেই পিছিয়ে পড়লে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন—এই বাস্তবতাও মাথায় রেখেই তারা পরিকল্পনা করছে। ভারতের বিরুদ্ধে খেলাটা যে সহজ হবে না, তা হোপ স্বীকার করেছেন। দেশের মাটিতে ভারত সবসময়ই ভয়ংকর প্রতিপক্ষ। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় আর আগের দল নয় বলেই আত্মবিশ্বাসী তিনি। খুব বড় পরিবর্তন না এলেও মানসিকতা ও দলগত বোঝাপড়ায় উন্নতি হয়েছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—“আমরা খেলতে নয়, জিততে এসেছি।” একই সুর শোনা গিয়েছে জিম্বাবোয়ে-এর অধিনায়ক সিকান্দার রাজা-র গলাতেও। অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দল থাকা গ্রুপে শীর্ষে শেষ করেছে জ়িম্বাবোয়ে। দু’দলকেই হারিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, এই বিশ্বকাপে তারা শুধুই অংশগ্রহণকারী নয়। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়াকে ছিটকে দিয়ে সুপার এইটে ওঠা তাদের আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবু সিকন্দর নিজেকে ‘আন্ডারডগ’ বলতেই স্বচ্ছন্দ। তাঁর মতে, এতে চাপ কম থাকে এবং দল স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারে। টস বা প্রতিপক্ষ নিয়ে বাড়তি চিন্তা না করে নিজের প্রস্তুতির উপরই জোর দিচ্ছেন তিনি। দলের সকলকে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন—বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হবেই, তাই ভয় পেলে চলবে না। নিজেদের সেরাটা দিতে পারলেই যে কোনও দিন যে কোনও দলকে হারানো সম্ভব। সুপার এইটে ভারতের গ্রুপে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জ়িম্বাবোয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। ২২ ফেব্রুয়ারি অহমদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে, ২৬ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে এবং ১ মার্চ কলকাতার ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। তার আগে দুই প্রতিপক্ষ অধিনায়কের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য স্পষ্ট করে দিল—ভারতের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন লড়াই। সূর্যকুমার যাদবদের সামনে তাই শুধু প্রতিপক্ষ নয়, চ্যালেঞ্জও সমান তীব্র।

