#eci
#poll
#election
#bjp
#tmc
কলকাতা: বিধানসভা ভোটের মুখে দক্ষিণবঙ্গের একসময়ের অদম্য সংগঠনিক শক্তির কেন্দ্র সুন্দরবনে শাসক দলের অস্বস্তির হাওয়া। দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক পঞ্চায়েত স্তরের নির্বাচিত প্রতিনিধি দলবদল করে বিজেপির শিবিরে নাম লেখানোয় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে কলকাতার দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যোগদান পর্ব সম্পন্ন হয়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিজে উপস্থিত থেকে নতুনদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। গোসাবা ও ক্যানিং-১— এই দুই ব্লক থেকেই মূলত প্রতিনিধিরা শাসকদল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন।
গোসাবা অঞ্চল থেকেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন। কারণ, এখানে পঞ্চায়েত সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারী, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান-উপপ্রধান থেকে শুরু করে মহিলা সংগঠনের নেতৃত্ব— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখ দলত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে ক্যানিং-১ ব্লক থেকেও প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিদের একটি অংশ শিবির বদল করেছেন।
দলবদলের পরে আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা যায় শুভেন্দুর গলায়। তাঁর কথায়, “গোসাবা ব্লক থেকে তৃণমূল কার্যত শূন্য হয়ে গিয়েছে। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় এ বার আমরা নতুন সমীকরণ তৈরি করব।” আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি দাবি করেন, “এই জেলা অতীতে যেমন রাজ্যের রাজনৈতিক হাওয়া বোঝার সূচক ছিল, এ বারও তার ব্যতিক্রম হবে না।”
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে অভিষেক ব্যানার্জী-এর প্রভাববলয়ে। কারণ, দক্ষিণ ২৪ পরগনাকেই দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দেখা হয়ে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জেলায় সংগঠনের ভিত নড়ে গেলে তার প্রভাব বৃহত্তর নির্বাচনী ফলাফলেও পড়তে পারে।
যদিও দলত্যাগীদের দাবি, তাঁদের সিদ্ধান্ত ‘আদর্শগত’। শুভেন্দুর কথাতেও সেই ইঙ্গিত, “অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ রাখছিলেন। আমরা খতিয়ে দেখে, পরিষ্কার ভাবমূর্তির মানুষদেরই দলে নিয়েছি।”
ভোটের ঠিক আগে এই দলবদল নিছক প্রতীকী, নাকি বৃহত্তর স্রোতের সূচনা— তা সময়ই বলবে। তবে এটুকু স্পষ্ট, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রাজনৈতিক লড়াই এ বার আরও তীব্র হতে চলেছে।

