মাদুরাত্তকম : বিজেপির বরিষ্ঠ নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার জানিয়েছেন যে, তামিলনাড়ুর মানুষ দ্রমুক (ডিএমকে)-এর অপশাসন থেকে মুক্তি পেতে উন্মুখ। রাজ্যবাসী এখন পরিবর্তন চান এবং তাঁরা তামিলনাড়ুতে ভারতীয় জনতা পার্টি ও এনডিএ নেতৃত্বাধীন সরকার গড়ার দাবি তুলছেন।
শুক্রবার তামিলনাড়ুর মাদুরাত্তকমে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের মানুষ দ্রমুক-কে দু’বার স্পষ্ট জনমত দিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁরা মানুষের সেই বিশ্বাসের অমর্যাদা করেছে।”
দলের বিরুদ্ধে বংশবাদী রাজনীতির অভিযোগ তুলে মোদী বলেন, দ্রমুক-এ সাধারণ কর্মীদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। সেখানে কেবল একটি নির্দিষ্ট পরিবারের ঘনিষ্ঠরাই সুবিধা পান। রাজ্যে দুর্নীতি এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে দ্রমুক সরকারের নতুন নাম হয়েছে ‘সিএমসি সরকার’। তিনি দাবি করেন, তামিলনাড়ুর মানুষ এবার দ্রমুক-কে প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন যে, এনডিএ তামিলনাড়ুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে অঙ্গীকারবদ্ধ। রাজ্যে ওষুধ (ফার্মাসিউটিক্যালস) এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির শিল্পকে উৎসাহ দেওয়া হবে, যার ফলে যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
জনসভায় জল্লিকাট্টুর প্রসঙ্গ তুলে মোদী অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেস এবং দ্রমুক সরকার এই প্রাচীন ঐতিহ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে তামিল সংস্কৃতির অপমান করেছিল। অন্যদিকে, এনডিএ সরকার আইনি পথ প্রশস্ত করে তামিলনাড়ুর এই গৌরবময় ঐতিহ্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।
রাজ্যের যুব ও নারী শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “মাদক মাফিয়ারা আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগুলিকে টার্গেট করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র সরকার তামিলনাড়ুর কৃষক ও মৎস্যজীবীদের উৎপাদিত পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে চায়। ক্ষুদ্র চাষি ও মৎস্যজীবীদের সমবায়ের (এফপিও) আওতায় আনার কাজ চলছে। তামিলনাড়ুতে ফুড প্রসেসিং বা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, গত ১১ বছরে এনডিএ সরকার তামিলনাড়ুকে কেন্দ্রীয় অনুদান বাবদ ৩ লক্ষ কোটি টাকা দিয়েছে, যা আগের জোট সরকারের তুলনায় তিন গুণ বেশি। এছাড়া গত এক দশকে রাজ্যে গরিব কল্যাণে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

