“ফাইনাল টা হয়তো অভিষেকের জন্য তোলা” নিজে নায়ক, তবু সতীর্থের পাশে সঞ্জু !

ওয়াংখেড়েতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। সেমিফাইনালের পর দলের ভিতরের পরিবেশ, সতীর্থদের প্রতি আস্থা এবং নিজের ব্যাটিং নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন সঞ্জু স্যামসন। প্রতিযোগিতামূলক দলে থেকেও খেলোয়াড়দের মধ্যে যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব এবং সমর্থন রয়েছে, সেটাই যেন স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। বিশেষ করে ফর্মহীন অভিষেক শর্মার পাশে দাঁড়িয়ে সঞ্জুর মন্তব্য নজর কেড়েছে।
বিশ্বকাপ জুড়ে অভিষেকের ব্যাটে প্রত্যাশিত রান আসেনি। সেমিফাইনালেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। তবুও সতীর্থকে নিয়ে কোনও উদ্বেগ নেই বলেই জানিয়েছেন সঞ্জু। ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, দলের ভিতরের পরিবেশ অত্যন্ত ইতিবাচক। সবাই আনন্দের সঙ্গে খেলছে এবং সাজঘরেও দারুণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দলের সিনিয়রদের ভরসাই তরুণদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। সঞ্জুর মতে, অভিষেকের বড় ইনিংস কেবল সময়ের অপেক্ষা, এবং তাঁর বিশ্বাস ফাইনালেই হয়তো সেই ইনিংস দেখা যাবে।
নিজের ফর্ম নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন সঞ্জু। বিশ্বকাপের আগে তিনি ছন্দে ছিলেন না। ব্যাটিংয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। তিনি জানান, নিউ জিল্যান্ড সিরিজে অযথা শক্তি প্রয়োগ করে বড় শট মারার চেষ্টা করছিলেন, যার ফলে ব্যাটিংয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে শক্তির চেয়ে টাইমিংয়ের উপর জোর দেওয়াই বেশি জরুরি। সেই পরিবর্তনের ফলেই এখন ব্যাটে বল ভাল লাগছে এবং আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে।
তবে নিজের সাফল্যের মাঝেও সতীর্থদের অবদান ভুলে যাননি তিনি। সঞ্জুর কথায়, যখন তিনি ফর্ম খুঁজছিলেন, তখন অভিষেকই একাই দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। সেই অবদান দলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা ভুলে গেলে চলবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে ম্যাচের আগে থেকেই স্পষ্ট ধারণা ছিল ভারতীয় ব্যাটারদের। সঞ্জুর মতে, এই পিচে বড় রান করা জরুরি ছিল। অভিষেকই প্রথম তাঁকে বলেছিলেন যে এখানে অন্তত ২৫০ রান প্রয়োজন হতে পারে। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে ব্যাটিং পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অভিষেক আউট হওয়ার পর সঞ্জু এবং ঈশান দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। পরে তিলক ও হার্দিকও একইভাবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। কারণ সবাই জানতেন, এই মাঠে বড় লক্ষ্যও তাড়া করা সম্ভব।
ম্যাচে নিজের ইনিংস নিয়েও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন সঞ্জু। আগের ম্যাচ থেকেই তিনি ছন্দে ফিরেছিলেন এবং সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই ব্যাট করতে নেমেছিলেন। তাঁর মতে, ওয়াংখেড়ের মতো মাঠে বড় ম্যাচ জিততে হলে বড় স্কোর করতেই হয়। তাই শুরু থেকেই যত বেশি সম্ভব রান তোলার চেষ্টা করেছিলেন।
তবে জয়ের আসল কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন বোলারদের। বিশেষ করে জসপ্রীত বুমরাহর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন সঞ্জু। তাঁর মতে, এই উইকেটে বোলিং করা অত্যন্ত কঠিন হলেও বুমরাহ অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সঞ্জু মনে করেন, ম্যাচের সেরার পুরস্কার আসলে বুমরাহরই প্রাপ্য ছিল। কারণ ২৫০ রান করার পরেও ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু বুমরাহর চার ওভারই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
কৌশলগত সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন সঞ্জু। তিনি বলেন, দল দ্রুত ম্যাচ শেষ করতে চেয়েছিল বলেই বুমরাহ ও হার্দিকের ওভার আগেই ব্যবহার করা হয়। যদিও ম্যাচ শেষ পর্যন্ত শেষ ওভার পর্যন্ত গড়ায়, তবুও ততক্ষণে প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি অনেকটাই কমে গিয়েছিল।
শেষে সঞ্জু বলেন, দেশের হয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা তাঁর বহু দিনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন এবার সত্যি হতে চলেছে। রবিবার মাঠে নামার অপেক্ষায় এখন গোটা দলই ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − 4 =