ডার্বিতে নামার আগে চনমনে মেহরাজের ছেলেরা
আইএসএলে ২৩ মার্চ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হবে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও ইস্টবেঙ্গল। দুই দলই কাঙ্খিত তিন পয়েন্টের আশায় মাঠে নামবে। শনিবারের অনুশীলনে মহামেডান ম্যাচে তিন পয়েন্ট শুধু নয় গোল পার্থক্য বাড়িয়ে নেওয়ারও পরিকল্পনা করছে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুঁজো। ফরোয়ার্ড লাইনে জোড়া স্ট্রাইকার নিয়ে খেলার পরিকল্পনা, খেলবেন ইউসেফ এজ্জেজ্জারি ও ডেভিড লালহানসাঙ্গা। তরুণ মহামেডান দলকে হারানো অতটাও সহজ হবে না লাল-হলুদ ব্রিগেডের জন্য। রবিবারের অনুশীলনের পর যথেষ্ট চনমনে মহামেডান ফুটবলাররা। সাদা-কালো ব্রিগেডের কোচ মেহরাজুদ্দিন ওয়াডু ফুটবলারদের উজ্জীবিত করছেন। অনুশীলনের মাঝে আলাদা করে কথা বললেন মহীতোষ রায় ও আদিঙ্গার সঙ্গে।
কোচ মেহরাজুদ্দিন ওয়াডু বলেন, “এই মরশুমে সব ম্যাচই আমাদের জন্য কঠিন। বিদেশি নেই বটে, তবে দেশীয় ফুটবলাররাও চেষ্টা করছে মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার। আগামীকাল ডার্বিতেও ফুটবলাররা ১০০% দেবে, তারা উজ্জীবিত আছে।” হীরা মন্ডলের চোট নিয়ে সংশয় দেখা দিলেও সম্ভবত ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে তাকে মাঠে নামাবেন কোচ মেহরাজ। গোড়ালির চোটের কারণে নেই তরুণ ফরোয়ার্ড ইস্রাফিল দেওয়ান।
এদিকে ইস্টবেঙ্গল শিবিরে সম্পূর্ণ অনুশীলনের সময়ে সাইডলাইনেই ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার কেভিন সিবিল্লে। শনিবার অনুশীলন শেষে বলে শট মারতে দেখা যায় কেভিনকে। ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন তিনি। আন্তর্জাতিক বিরতির পরই ফিট হয়ে উঠবেন কেভিন। সল ক্রেস্পো ও রশিদকে মাঝমাঠে, সেক্ষেত্রে মিগুয়েলকে হয়তো উইংয়ে দেখা যেতে পারে। অপর প্রান্তে বিপিন সিং। দুই সাইডব্যাক সম্ভাব্য পিভি বিষ্ণু ও মহম্মদ রাকিপ। সম্ভাব্য এই ছকেই মহামেডানের বিরুদ্ধে নামতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল।
সাংবাদিক সম্মেলনে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুঁজো বলেন, “দুদিন পিছিয়ে যাওয়ায় সুবিধা হয়েছে আমাদের। আমাদের স্টেবিলিটি বজায় রাখতে হবে। একই একাদশ বজায় রাখা নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু এসব অতীত। রমজানের পর আমরা আবার সন্ধ্যেবেলায় খেলছি। মহামেডান ভালো দল, মেহরাজের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছি। কেরালা ম্যাচের স্মৃতি মাথায় রয়েছে। আমাদের কাছে বড় সুযোগ রয়েছে টেবিলের শীর্ষস্থানের ব্যবধান কমানোর। মরশুমের শুরুতে যা ছিল, এখনও ড্রেসিংরুমে তা রয়েছে। আপনারাই বলছিলেন, খেতাব ছাড়া গুরুত্ব নেই। তবে এগুলো শুধু বাইরের কথা। তবে এগুলো আমরা পছন্দ করি, এতে আমরা উদ্বুদ্ধ হই। প্রতিটা খেলার শেষ ১০-১৫ মিনিটে ফলাফল আসছে। এবারের আইএসএল খুবই কঠিন।”
পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “সমর্থকরাই আমাদের শক্তি। আমরা পেশাদার এবং আমরা বুঝি প্রতিটা ব্যর্থতা হতাশাজনক৷ তবে আমরা সব সময় চেষ্টা করি এমন পারফর্মেন্স দেওয়ার যাতে সমর্থকরা গর্বিত হয়। আমাদের সমর্থকরা দেশের সেরা। ওদের অধিকার রয়েছে হতাশ হওয়ার। আমরা চাইব ওরা আমাদের পাশে থাকুক।”
গোলকিপার প্রভসুখন গিল বলেন, “আমরা এই মরশুমে ভালো ফুটবল খেলছি। ডুরান্ড কাপ, আইএফএ শিল্ড, সুপার কাপ হোক বা এই আইএসএল – আমরা সব থেকে কম গোল খেয়েছি আর বেশি গোল করেছি। আমরা একাই পয়েন্ট নষ্ট করিনি, বাকিরাও করেছে।”

