প্রায় দেড় যুগ পর বরোদায় প্রত্যাবর্তন টিম ইন্ডিয়ার ! কেমন হতে চলেছে টিম কম্বিনেশন ?

শহরের কোলাহল থেকে বেশ কিছুটা দূরেই বরোদার নতুন কোতান্বি স্টেডিয়াম। আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় ঠাসা এই মাঠ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরার অপেক্ষায় ছিল। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান। টানা ষোলো বছর পর আবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে চলেছে গুজরাটের এই শহর। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, আর আশ্চর্যের বিষয়, ২০১০ সালে বরোদার রিলায়েন্স স্টেডিয়ামে শেষ যে আন্তর্জাতিক ম্যাচটি হয়েছিল, সেটিও ছিল ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড। যেন ইতিহাস নিজেই ফিরে আসছে নতুন ঠিকানায়।এক দশকেরও বেশি সময় পর বরোদায় নামছে টিম ইন্ডিয়া। ফলে শহরজুড়ে উন্মাদনা

তুঙ্গে থাকাটাই স্বাভাবিক। মাঠের বাইরে থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের আশপাশ—সব জায়গাতেই ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা। ভারতীয় শিবিরেও মেজাজ বেশ ফুরফুরে। বিরাট কোহলি, যশস্বী জয়সওয়ালরা অনেক আগেই বরোদায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। ম্যাচের আগের দিন নেটে দীর্ঘক্ষণ প্র্যাকটিস করেন বিরাট। শুক্রবার দলের প্রায় সব সদস্যই শহরে এসে পৌঁছন।

বিকেল পাঁচটা থেকে মূল স্টেডিয়ামে ভারতের প্র্যাকটিস সেশন শুরু হয়। তবে বিরাট কিংবা রোহিত শর্মা—কেউই খুব বেশি সময় ব্যাটিং করেননি। মূলত হালকা অনুশীলন আর শরীর ঝালিয়ে নেওয়াতেই মন দেন সিনিয়র ক্রিকেটাররা। গোটা ট্রেনিং সেশনে ক্রিকেটারদের হাসিখুশি মেজাজেই দেখা যায়। বিশেষ করে রোহিত ও বিরাটকে একে অপরের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আড্ডা দিতে দেখা যায়, যা দলের ইতিবাচক পরিবেশেরই ইঙ্গিত।

এই প্র্যাকটিসের মধ্যেই চোখে পড়ে একটি বিশেষ দৃশ্য। তরুণ ওপেনার যশস্বী জয়সওয়ালকে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ আলাদা করে সময় কাটান বিরাট কোহলি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে শুভমন গিল না থাকায় রোহিতের সঙ্গে ওপেন করেছিলেন যশস্বী। যদিও প্রথম দু’টি ম্যাচে ভালো শুরু করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। শেষ ম্যাচে অবশ্য দুরন্ত সেঞ্চুরি হাঁকান। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বিরাট এদিন যশস্বীকে একাধিক বিষয় বুঝিয়ে দেন। ব্যাটিংয়ের টেকনিক, শট নির্বাচন কিংবা মানসিক প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে যেন এক বিশেষ মাস্টারক্লাসই চলল।

নিউজিল্যান্ড সিরিজের মূল আকর্ষণ যে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে দু’জনেই ছিলেন দুরন্ত ফর্মে। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নয়, সিরিজের আগে ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন তাঁরা। বিজয় হাজারে ট্রফিতে রান করেছেন দু’জনেই। ‘রো-কো’ ফর্মে থাকলে দলের বাকি ক্রিকেটারদের কাজ যে অনেকটাই সহজ হয়ে যায়, তা ভালো করেই জানে ভারতীয় শিবির।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে এই ওয়ানডে সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে জশপ্রীত বুমরাকে। ফলে ওয়ানডে দলে ফিরেছেন মহম্মদ সিরাজ। বিজয় হাজারে ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে অর্শদীপ সিংয়ের সঙ্গে সিরাজের জুটি দেখার সম্ভাবনাই বেশি। ঘরের মাঠে ভারত তিন স্পিনার নিয়ে নামতে পারে—রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদবের সঙ্গে ওয়াশিংটন সুন্দর। হার্দিক পাণ্ডিয়া না থাকায় পেসার অলরাউন্ডার হিসেবে নীতীশ রেড্ডির খেলার সম্ভাবনাও রয়েছে।

যদিও চূড়ান্ত একাদশ এখনও ঠিক হয়নি। ম্যাচের আগের দিন শনিবার পিচ ও কন্ডিশন দেখেই শেষ সিদ্ধান্ত নেবে টিম ম্যানেজমেন্ট। এদিকে নিউজিল্যান্ড দলও অনুশীলন সেরে নিয়েছে। গত বছর টেস্ট সিরিজে ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করার স্মৃতি থাকলেও, ওয়ানডে সিরিজে সেসব টেনে আনতে নারাজ ব্রেসওয়েলরা। তবে তারা জানে, বিরাট-রোহিতদের থামাতে না পারলে ভারতের মাটিতে সিরিজ জেতা কার্যত অসম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 3 =