টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে স্বস্তির খবর ভারতীয় শিবিরে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন তারকা ওপেনার অভিষেক শর্মা। প্রথম ম্যাচে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে প্রথম বলেই আউট হয়ে যাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ম্যাচের পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। তবে বুধবার বিকেলের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন অভিষেক, যা টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য বড় স্বস্তি।
জানা গিয়েছে, অভিষেক শর্মার পাকস্থলীতে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আমেরিকার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগেই তিনি শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ম্যাচ শেষে সেই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। জ্বরের কারণে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং তৎক্ষণাৎ ওষুধ দেওয়া হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। অসুস্থতার জন্য দলের সঙ্গে অনুশীলনেও অংশ নিতে পারেননি তিনি। এমনকি দিল্লিতে কোচ গৌতম গম্ভীরের আয়োজিত নৈশভোজেও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি অভিষেক। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার গভীর রাতে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ায় চিকিৎসকরা আপাতত আশাবাদী। বৃহস্পতিবার নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের দ্বিতীয় ম্যাচ। সেই ম্যাচের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিলক বর্মা জানান, “দিল্লি পৌঁছনোর পর কিছু পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য অভিষেককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আজ ওকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ও অনেকটাই ভালো আছে। ম্যাচের আগে একটা গোটা দিন রয়েছে, পর্যবেক্ষণের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ও খেলবে কিনা।”
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হলেও টুর্নামেন্টের আগে দুরন্ত ফর্মে ছিলেন অভিষেক শর্মা। আইসিসি টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং ক্রমতালিকাতেও বর্তমানে তিনি এক নম্বরে রয়েছেন। ফলে তাঁর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা ভারতীয় দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবার সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে জানিয়েছিলেন, “অভিষেকের পেটের সমস্যাটা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তবে আমরা দু’দিনের মধ্যে ওকে মাঠে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।”
তবে নামিবিয়ার মতো তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিষেককে বিশ্রাম দেওয়ার কথাও ভাবতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। সে ক্ষেত্রে প্রথম একাদশে সুযোগ পেতে পারেন সঞ্জু স্যামসন। কারণ, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। সেই ম্যাচের কথা মাথায় রেখে অভিষেককে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলাই যে ভারতের কাছে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য, সে বিষয়ে ক্রিকেটমহলের একাংশ একমত।

