কলকাতা : এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে পারদ চড়ল। তালিকা সামনে আসার পর সরাসরি আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর কেন্দ্রকে সামনে রেখে তাঁর স্পষ্ট দাবি, “প্রথম দফায় ৪৫ হাজার নাম বাদ গেছে। পুনর্বিবেচনায় রয়েছে ১৪ হাজার ৫১৪। অর্থাৎ প্রায় ৬০ হাজারের মতো। ওঁকে জেতানোর মতো ভোটার ভবানীপুরে নেই—তালিকাই তা বলছে।”
ভোটার ছাঁটাই নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে শুভেন্দুর বক্তব্য, “২৬ দিন অন্তর অন্তর সন্তানের জন্ম হতে পারে না। একজনের ১০০টি সন্তানও হতে পারে না। এই ধরনের অস্বাভাবিক নামগুলোই ‘এলডি’ হিসেবে ধরা পড়েছে। বিচারপতিরা নথি দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি যেটুকু ভিতরের খবর পাচ্ছি, বিচারব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখছে। কেউ কাউকে প্রভাবিত করতে পারবে না। সবটাই ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে। চাইলে বদলানো সম্ভব নয়।”
মোট কত নাম বাদ গেল, সে প্রশ্নে তাঁর হিসেব, “শুরুতে প্রায় ৫৮ লক্ষ, পরে অনুপস্থিত মিলিয়ে ৫-৬ লক্ষ। সব মিলিয়ে ৬৩-৬৪ লক্ষ বাদ। ৬৫ লক্ষ নাম বিবেচনায় রয়েছে। অফ দ্য রেকর্ড কিছু তথ্য আছে, কিন্তু তা বলছি না।”
নন্দীগ্রাম ইস্যুতে পাল্টা তোপ দেগে শুভেন্দুর দাবি, “ভবানীপুরের ফল আড়াল করতেই এসব বলা হচ্ছে। মৃত ভোট বা অনুপস্থিত ভোট আমার দরকার হয় না। আমি ওদের তিনবার হারিয়েছি—পঞ্চায়েতেও। ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১১টিতে হেরেছি, দু’টি পঞ্চায়েত সমিতিতেও হার। আমার লিড ছিল ২ হাজার, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের লিড হয়েছে ৮ হাজার ২০০।”
বিএলও ও এইআরও নিয়োগ ঘিরেও কড়া সুরে তিনি বলেন, “যাঁরা এই জটিলতা তৈরি করেছেন, তাঁরা রাজ্য সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত। দায় এড়ানোর উপায় নেই। নিয়োগ করেছে রাজ্য, জবাবদিহিও রাজ্যকেই করতে হবে।” পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে নিশানা করে কটাক্ষ, “সরকারে একটাই পোস্ট—সবাই জানে।”
অশান্তির আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শুভেন্দুর বক্তব্য, “শুক্রবারের প্রার্থনার পর বহু জায়গায় ইমামরা শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন। কোচবিহারে কিছু নেতা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আশ্বস্ত করেছেন—ভোট না দিলেও ভাতা চালু থাকবে। তারাও বলেছে, ভোটের দরকার নেই, ভাতা থাকলেই হবে।”
এসআইআর তালিকা ঘিরে বিতর্ক যত গভীর হচ্ছে, ততই রাজনৈতিক ময়দানে বাড়ছে সংঘাতের তাপ। বিরোধী দলনেতার এই তীব্র ভাষণ সেই উত্তাপেই আরও ঘি ঢালল।

