কলকাতা : রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়া ঘিরে একাধিক অভিযোগ ও প্রশ্ন তুলে প্রধান নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে মঙ্গলবার সরব হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, নির্বাচনী তালিকা সংশোধন থেকে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা—সবকিছু নিয়েই তাঁদের আপত্তি রয়েছে এবং সেই বিষয়গুলিই আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিরোধী দলনেতার দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাঁর কথায়, “শীর্ষ আদালত যে কাঠামো বেঁধে দিয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা বাধ্যতামূলক। কোথাও বিচ্যুতি হলে কমিশনকেই দায় নিতে হবে।”
নদিয়া জেলার একটি অডিও রেকর্ডিং প্রসঙ্গেও তিনি প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ, নথি জমার শেষ দিনে এক প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছেন। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “অডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ ফরেনসিক পরীক্ষা হোক। প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এছাড়া পূর্ব বর্ধমান ও উত্তর ২৪ পরগনার দুই শীর্ষ জেলা আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও আপত্তি তোলেন তিনি। আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার আগে প্রশাসনিক বদল প্রয়োজন বলে দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, “অনেক ক্ষেত্রেই নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিক নিয়োগে কমিশনের নিজস্ব নির্দেশ মানা হয়নি।”
কলকাতা হাইকোর্টে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে এক প্রাক্তন আমলার উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য, “অবসরপ্রাপ্ত কোনও ব্যক্তি নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে পারেন না। এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।”
সব মিলিয়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সরব বিরোধী শিবির। এখন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

