নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশাখাপত্তনমে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের হার শুধু একটি ম্যাচ হার নয়, বরং একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিল। সিরিজ় ৩-০ জেতার পরেও আত্মতুষ্টির ছাপ স্পষ্ট ধরা পড়ল ভারতীয় শিবিরে। শেষ পর্যন্ত ৫০ রানে হেরে গিয়ে সেই আত্মবিশ্বাসই যেন কাল হল সূর্যকুমার যাদবদের।
এই ম্যাচে ভারতের লড়াইয়ের মুখ ছিলেন শিবম দুবে। যত ক্ষণ তিনি ক্রিজ়ে ছিলেন, তত ক্ষণ জয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন ভারতীয় সমর্থকেরা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় ভারতের প্রত্যাবর্তনের আশা। ২৩ বলে ৬৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেও দলকে জেতাতে পারলেন না শিবম।
টস জিতে আরও একবার প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন সূর্যকুমার। কিন্তু নিউজিল্যান্ড আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। তারা জানত, ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে অন্তত ২০০ রান তুলতেই হবে। সেই লক্ষ্যেই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন টিম সেইফার্ট। প্রথম বল থেকেই হাত খুলে খেলেন তিনি। আইপিএলের আসন্ন মরশুমে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলার আগে তাঁর এই ইনিংস নিঃসন্দেহে নাইট কর্তাদের মুখে হাসি ফোটাবে।
ডেভন কনওয়ে শুরুতে ধীরে খেললেও সেইফার্টের ব্যাটে দ্রুত রান উঠছিল। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে হর্ষিত রানা আবারও হতাশ করলেন। অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাঁর অতিরিক্ত রান দেওয়ার প্রবণতা থামছে না। তবে কুলদীপ যাদব বলের গতি কমিয়ে ভারতকে খেলায় ফেরানোর চেষ্টা করেন। তাঁর বলে ৪৪ রানে আউট হন কনওয়ে। রান পাননি রাচিন রবীন্দ্রও।
৩৬ বলে ৬২ রান করা সেইফার্টকে আউট করেন অর্শদীপ সিংহ। গ্লেন ফিলিপ্সের উইকেটও তুলে নেন কুলদীপ। মাঝের ওভারগুলোতে কিছুটা চাপে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড। এক সময় মনে হচ্ছিল, কিউয়িরা ২৩০-২৪০ রান তুলবে। কিন্তু পরপর উইকেট পড়ায় সেই গতি কমে যায়। শেষদিকে ড্যারিল মিচেল ১৮ বলে ৩৯ রান করে দলকে ২০০ পার করান। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২১৫ রান করে নিউজিল্যান্ড।
ভারতের হয়ে অর্শদীপ ও কুলদীপ নেন ২টি করে উইকেট। বুমরাহ ও বিশ্নোই পান ১টি করে। তবে হর্ষিত ৪ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন। ফিল্ডিংয়ে নজর কাড়েন রিঙ্কু সিংহ—তিনটি দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন তিনি।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যর্থ হন অভিষেক ও সূর্য। সুযোগ ছিল সঞ্জু স্যামসনের সামনে, কিন্তু তিনি ফের হতাশ করলেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব স্পষ্ট ছিল। বল দেখে খেলার বদলে আগেই শট ঠিক করে ফেলছিলেন তিনি। মিচেল স্যান্টনারের বলে লাইন মিস করে ১৫ বলে ২৪ রান করে আউট হন সঞ্জু। এই ম্যাচের পর বিশ্বকাপের প্রথম একাদশ থেকে তিনি আরও দূরে সরে গেলেন বলেই মনে হচ্ছে।
সেখান থেকেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন শিবম দুবে। উইকেট পড়লেও আক্রমণের ধার কমাননি তিনি। ইশ সোধির এক ওভারে ২৯ রান নিয়ে ম্যাচে প্রাণ ফেরান শিবম। মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান করে ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরির নজির গড়েন তিনি। শেষ ছ’ওভারে ৮২ রান দরকার ছিল ভারতের। যত ক্ষণ শিবম ছিলেন, তত ক্ষণ ম্যাচ জমজমাট।
কিন্তু হর্ষিতের শট হেনরি হাত ছুঁয়ে স্টাম্পে লাগতেই রান আউট হন শিবম। সেই সঙ্গেই কার্যত শেষ হয়ে যায় ভারতের লড়াই। শেষ পর্যন্ত ১৮.৩ ওভারে ১৬৫ রানে অল আউট হয়ে যায় ভারত। সিরিজ় জেতা থাকলেও এই হার ভারতের দল নির্বাচন, মানসিকতা ও প্রস্তুতি নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন রেখে গেল।

