নতুন দিল্লি : রাজ্যের প্রশাসনিক অন্দরে কি তবে সমন্বয়ের চরম অভাব? নাকি বিচারব্যবস্থার প্রতি দায়বদ্ধতায় মরচে ধরেছে? সোমবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এজলাসে দাঁড়িয়ে এমনই অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হলো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে। মালদার মোথাবাড়িতে বিচারকদের হেনস্থার ঘটনায় নবান্নের দুই শীর্ষ আধিকারিককে কার্যত ‘ধোলাই’ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের প্রতিটি শব্দ এদিন যেন তপ্ত শলাকার মতো বিঁধল প্রশাসনের গায়ে। আদালতের সবথেকে বড় তির্যক তিরটি ছিল মুখ্যসচিবের আচরণের দিকে। অভিযোগ, ঘটনার সময় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বারবার ফোন করলেও ওপার থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। এই ঘটনাকে ‘অমার্জনীয়’ আখ্যা দিয়ে বিচারপতি সূর্যকান্ত সাফ প্রশ্ন করেন, “মিস্টার সেক্রেটারি, সমস্যাটা ঠিক কোথায়? আপনি কি প্রধান বিচারপতির ফোন ধরার প্রয়োজনও মনে করেন না?” জবাবে মুখ্যসচিব জানান তিনি তখন বিমানে ছিলেন, কিন্তু আদালত সেই যুক্তি মানতে চায়নি। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী আরও এক কদম এগিয়ে বলেন, “দয়া করে আপনাদের নিরাপত্তা বলয় একটু শিথিল করুন, যাতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতো সাধারণ মানুষও আপনাদের নাগাল পেতে পারেন।”।
শুনানিতে বিচারপতিরা কড়া ভাষায় বলেন, “যে রাজ্যে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরাই নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততা আসলে চরম ব্যর্থতা।” পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, মোথাবাড়ি কাণ্ডের তদন্তভার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-এর হাতেই থাকছে।
শুনানিতে বিচারপতিরা কড়া ভাষায় বলেন, “যে রাজ্যে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরাই নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততা আসলে চরম ব্যর্থতা।” পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, মোথাবাড়ি কাণ্ডের তদন্তভার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-এর হাতেই থাকছে।
নবান্নের এক পদস্থ কর্তার কথায়, “শীর্ষ আদালতের এই কঠোর অবস্থান কার্যত রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার ওপর একটি বড় অনাস্থা প্রস্তাব।” আদালত মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছে ব্যক্তিগতভাবে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাইতে। আজকের এই শুনানি রাজ্য সরকারকে বুঝিয়ে দিল—কেবল কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার প্রতি মর্যাদা বজায় রাখা জরুরি।

