#eci
#ceo
#election
#list
#voterlist
- কলকাতা : ভোটের মুখে তালিকা নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত। দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের মাত্র এক দিনের মধ্যেই তৃতীয় তালিকা প্রকাশ করে দিল নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। শনিবার রাত্রিতে হঠাৎ এই ঘোষণা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটার—সবার মধ্যেই তৈরি হয়েছে নতুন করে উদ্বেগ ও কৌতূহল।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটাররা নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করলেই নিজের নাম তালিকায় রয়েছে কিনা তা যাচাই করতে পারবেন। ফলে বাড়িতে বসেই এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা সম্ভব হলেও, তালিকা প্রকাশের ঘনঘন পরিবর্তন ভোটারদের একাংশকে বিভ্রান্ত করছে বলেই মত বিশ্লেষকদের।
কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, এখন থেকে আর নির্দিষ্ট কোনও দিনে তালিকা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকছে না। বরং সংশ্লিষ্ট বিচারিক আধিকারিকরা যখন যে হারে নথিতে ই-স্বাক্ষর সম্পন্ন করবেন, সেই অনুযায়ী তালিকা প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ, কখনও প্রতিদিন, আবার কখনও এক বা দুই দিন অন্তরও নতুন তালিকা সামনে আসতে পারে।
এক নির্বাচন আধিকারিকের কথায়, “জুডিশিয়াল অফিসাররা যখন যেমনভাবে যতটা ই-সাইন করে দেবেন, সেদিনই সেই তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন।” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, পুরো প্রক্রিয়াটি এখন নির্ভর করছে প্রশাসনিক অনুমোদনের গতির উপর।
তবে এই দ্রুততার মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে। ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা না থাকা যে কোনও নাগরিকের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক তালিকা প্রকাশ সাধারণ মানুষের মধ্যে সংশয় তৈরি করছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতি ভোটের আগে প্রশাসনিক চাপেরই ইঙ্গিত বহন করছে। যদিও কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এদিকে, সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে প্রশাসনের বার্তা—নিজেদের নাম নিয়মিতভাবে যাচাই করা জরুরি। কারণ, তালিকায় সামান্য পরিবর্তনও ভোটাধিকার প্রয়োগে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, তালিকা প্রকাশের এই দ্রুত গতি যেমন প্রযুক্তিগত দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে, তেমনই তৈরি করছে অনিশ্চয়তার আবহ। এখন দেখার, এই প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কতটা স্বচ্ছ ও নির্ভুল থাকে, এবং ভোটারদের আস্থা কতটা ধরে রাখতে পারে নির্বাচন ব্যবস্থা।

