সৌরভকেই সমর্থন সৃঞ্জয়ের ! সিএবি নির্বাচনে বিরোধিতা সরিয়ে ঐক্যের আহ্বান মোহনবাগান সচিবের

সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখে সিএবি নির্বাচন ঘিরে কলকাতার ময়দানে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া সরাসরি প্রার্থী হওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেননি বটে, তবে অনেকেই মনে করছেন, ভোটের লড়াই মূলত দুই শিবিরের মধ্যে—একদিকে সৌরভ, অন্যদিকে অভিষেক। এই বিভাজন নিয়েই চিন্তিত ময়দানের অনেক কর্তা, বিশেষত মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বসু।

সৃঞ্জয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেই সমর্থন করছেন। তাঁর মতে, সভাপতি নির্বাচিত হলে কেবল ব্যক্তি নয়, পুরো প্যানেল নিয়েই আসা উচিত। তিনি মনে করেন, একক নেতৃত্ব দিয়ে কাজ এগোনো সম্ভব নয়, বরং যোগ্য ও কার্যকর দল থাকা জরুরি। এই কারণেই তিনি আশা করছেন, সৌরভের প্যানেল হবে যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গড়া।

তবে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি সৃঞ্জয় একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নির্বাচন শেষে সৌরভ ও অভিষেক উভয়েরই একসঙ্গে বসা উচিত। ব্যক্তিগত সম্পর্ক যদি ভালো না-ও থাকে, তবু বাংলা ক্রিকেটের স্বার্থে বিভাজন মুছে ফেলা জরুরি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ভোট-পূর্ব রাজনৈতিক লড়াই ও অভিযোগ-প্রতিঅভিযোগ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে প্রকৃত ক্ষতি হবে সিএবি-র। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ব্যক্তির সঙ্গে সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশনেরও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই যত দ্রুত সম্ভব দ্বন্দ্ব মেটানো দরকার।

সৃঞ্জয়ের বক্তব্যে পরিষ্কার, তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় ঢুকতে চান না। তবে বারবার তিনি জোর দিয়েছেন, যে কোনো মতভেদ ভুলে ক্রিকেটের স্বার্থে একজোট হয়ে কাজ করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি বলেছেন, “কলঙ্কের কালি শেষ পর্যন্ত অ্যাসোসিয়েশনের গায়েই লাগে।”

অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবও ইতিমধ্যেই সৌরভকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে। ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার জানিয়েছেন, সৌরভ নিজে তাঁদের সমর্থন চেয়েছেন এবং তাঁরা তাকে সমর্থন করবেন। ভবিষ্যতে সৌরভের সঙ্গে বাকি চারটি পদ নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই প্রসঙ্গে সৃঞ্জয় খানিক রসিকতার সুরেই বলেন, সৌরভ তাঁর কাছে ভোট চাইতে আসেননি। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচনকে তিনি ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা থেকে দেখছেন না, বরং চান নির্বাচনের পর সবাই মিলে সমন্বয় করে এগোতে।

শেষে সৃঞ্জয় একটি দৃষ্টান্তও টেনে আনেন। তিনি বলেন, “একটি হাতের বুড়ো আঙুল ঠিকমতো কাজ করতে চাইলে বাকি চার আঙুলকে শক্ত হতে হয়। যদি চারটি আঙুল দুর্বল হয়, তবে বুড়ো আঙুলও কার্যকর হয় না।” অর্থাৎ একক নেতৃত্ব নয়, বরং সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ টিমওয়ার্কই সংগঠন চালানোর আসল শক্তি।

সব মিলিয়ে সিএবি নির্বাচন কেবল দু’জন নেতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং গোটা বাংলার ক্রিকেট প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। সৃঞ্জয় বসুর মতো অনেকেই আশা করছেন, নির্বাচন শেষে বিভাজন দূর হয়ে সৌরভ ও অভিষেক একসঙ্গে কাজ করবেন, যাতে বাংলার ক্রিকেট আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen − 5 =