ইংল্যান্ডের কাছে ৫১ রানে হেরে মুখ থুবড়ে পড়ল শ্রীলঙ্কা !

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জিম্বাবোয়ের কাছে হারের পরই অস্বস্তি শুরু হয়েছিল শ্রীলঙ্কা শিবিরে। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচেও সেই হতাশার ছবিটাই ফের দেখা গেল। পাল্লেকেলেতে ইংল্যান্ডের কাছে ৫১ রানে হেরে সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্নে বড়সড় ধাক্কা খেল লঙ্কা বাহিনী। নিজেদের চেনা কন্ডিশন, পরিচিত পিচ—সবই ছিল শ্রীলঙ্কার পক্ষে। তবু ব্যাটে-বলে তারা পুরোপুরি পিছিয়ে পড়ল ইংল্যান্ডের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের সামনে।
এই ম্যাচে অধিনায়ক পাথুম নিশঙ্কা টসে জিতে প্রথমে ইংল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান। সিদ্ধান্তটা কাগজে-কলমে যুক্তিযুক্তই ছিল। কারণ পিচ স্পিন সহায়ক, বল থেমে আসছে—যা সাধারণত লঙ্কান বোলারদের অস্ত্র। শুরুতে ইংল্যান্ডের ব্যাটাররাও যে খুব স্বচ্ছন্দ ছিলেন, এমন নয়। জস বাটলার, হ্যারি ব্রুক, স্যাম কারান—কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। একের পর এক উইকেট পড়ায় চাপ বাড়ছিল ইংল্যান্ড শিবিরে।
কিন্তু সেই চাপ সামলে একপ্রান্ত আগলে রাখেন ফিল সল্ট। ৪০ বলে তাঁর ৬২ রানের ঝকঝকে ইনিংসই ম্যাচের ভিত গড়ে দেয়। ছয়টি চার ও দু’টি ছয়ের সাহায্যে তিনি রানের গতি বজায় রাখেন, যাতে ইংল্যান্ড সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছতে পারে। মাঝের দিকে উইল জ্যাকস ২১ রান যোগ করেন। লঙ্কান বোলারদের মধ্যে ডুনিথ ওয়েল্লাগে (২৬/৩) ও মহেশ থিকসানা (২১/২) যথেষ্ট লড়াই করলেও ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ১৪৬ রান তুলতে সক্ষম হয়।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই রান তাড়া করা সাধারণত খুব কঠিন নয়। কিন্তু পাল্লেকেলের পিচে সেটাই যে কতটা চ্যালেঞ্জিং, তা শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ব্যর্থতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের সামনে শুরু থেকেই ধসে পড়ে লঙ্কান টপ অর্ডার। জোফ্রা আর্চার-এর গতি ও বাউন্সের সামনে দাঁড়াতেই পারলেন না ব্যাটাররা। তাঁর সঙ্গে স্পিনে দাপট দেখান লিয়াম ডসন ও আদিল রশিদ।
একজন ব্যাটারও টপ অর্ডার থেকে ১০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। বল থেমে আসছে, স্পিনে বিষাক্ত ছোবল—সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন লঙ্কান ব্যাটাররা। মিডল অর্ডার আগের ম্যাচগুলিতেও চাপ সামলাতে পারেনি, এদিন টপ অর্ডার ভেঙে পড়তেই ম্যাচ কার্যত হাতছাড়া হয়ে যায়। একমাত্র অধিনায়ক দাসুন শনাকা ২৪ বলে ৩০ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে আর ফল বদলায়নি। শ্রীলঙ্কার ইনিংস থামে মাত্র ৯৫ রানে।
এই হারের ফলে শ্রীলঙ্কার সামনে চাপ আরও বেড়ে গেল। সামনে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। অন্যদিকে, সঠিক সময়ে ছন্দে ফিরে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের দৌড়ে এক পা এগিয়ে রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × two =