ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচ শুরুর আগেই যেন ভাগ্য লিখে দিয়েছিল তার পরিণতি। মাত্র ৩.৪ ওভার খেলা হওয়ার পরেই নামল প্রবল বৃষ্টি, আর সেই বৃষ্টিই শেষ পর্যন্ত ভাসিয়ে দিল পুরো ম্যাচ। প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও খেলা আর শুরু করা সম্ভব হয়নি। যদিও ইডেনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে বরাবরই গর্ব রয়েছে, তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশার আলো জ্বলছিল। পিচের কভার সরিয়ে ম্যাচ শুরুর চেষ্টাও করা হয়েছিল। এমনকি সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিজে মাঠে নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। কিন্তু সময়সীমার বাধা পেরোনো যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ ওভারের ম্যাচ শুরু করতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খেলা শুরু করতেই হত, যা আর সম্ভব হয়নি।
মাঠ ছাড়ার সময় সৌরভের গলায় ছিল আক্ষেপের সুর। তাঁর মতে, বৃষ্টি যদি একটু আগেই থামত, তাহলে অন্তত ছোট করে ম্যাচ আয়োজন করা যেত। তবে প্রকৃতির সামনে সব পরিকল্পনাই ব্যর্থ হয়ে যায়—এই ম্যাচ তারই উদাহরণ।
যদিও ম্যাচ পরিত্যক্ত, তবুও কেকেআরকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে। টস জিতে অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে-র আগে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই সমালোচনার মুখে। বিশেষ করে যখন আগে থেকেই বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল, তখন অনেকেই মনে করছেন আগে ফিল্ডিং করাই ছিল বেশি যুক্তিযুক্ত। কারণ, বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করা অনেক সময় সহজ হয়ে যায়।
আরও বড় প্রশ্ন উঠছে বরুণ চক্রবর্তী-র অনুপস্থিতি নিয়ে। সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী তিনি চোটের জন্য খেলেননি, কিন্তু অনেকের মতে তাঁর অফ ফর্মই আসল কারণ। একসময় যিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটারদের আতঙ্ক ছিলেন, বর্তমানে তাঁকে সহজেই পড়তে পারছেন প্রতিপক্ষরা। সৌরভও সেই কথাই ইঙ্গিত দিয়েছেন—ব্যাটাররা এখন বরুণের বল ধরতে পারছেন, ফলে তাঁর কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি শুধু আইপিএল নয়, ভবিষ্যতে ভারতীয় দলেও তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশেষ করে যখন তরুণ স্পিনাররা উঠে আসছেন, তখন প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। কেকেআরের বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা সুনীল নারিন-ও ফর্মে নেই, যা দলের সমস্যাকে আরও বাড়াচ্ছে।
সব মিলিয়ে কেকেআরের শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি। প্রথম দুই ম্যাচে হার, তারপর এই পরিত্যক্ত ম্যাচ—পরিস্থিতি মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। তবে এত দ্রুত আশা ছাড়তে নারাজ সৌরভ। তাঁর মতে, টুর্নামেন্ট এখনও অনেক বাকি, আর দল ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রাখে।
এখন দেখার, সমালোচনা আর ব্যর্থতা পেরিয়ে কেকেআর কত দ্রুত নিজেদের ছন্দে ফিরতে পারে। কারণ আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতায় এক মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে পুরো সমীকরণ।

