হেড কোচ হিসেবে সৌরভের  শুরু  নতুন ইনিংস ! প্রথম ম্যাচ হারের পরও আত্মবিশ্বাসী মহারাজ

দিল্লি ক্যাপিটালসে তিনি কখনও মেন্টর, কখনও ডিরেক্টর অব ক্রিকেট—কিন্তু হেড কোচের ভূমিকায় এই প্রথমবার। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবার দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগের দল প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ। নিলামে তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন, শুধু পরিকল্পনা নয়, আগামী তিন বছরের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী দল গড়ে তোলাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সপ্তাহেই তিনি উড়ে যান দক্ষিণ আফ্রিকায়। কোচ হিসেবে অভিষেকের অনুভূতি কেমন? সেঞ্চুরিয়নে বসে শনিবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপ কলে সৌরভ উচ্ছ্বসিত গলায় বলেন, “দুর্দান্ত অনুভূতি।
ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার সময় যেমন উত্তেজনা ছিল, কোচিং শুরু করার সময়ও অনুভূতিটা অনেকটা সেরকম।”
সৌরভ আরও জানান, এর আগে দিল্লি ও প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসে তাঁর ভূমিকা আলাদা ছিল, তখন হেড কোচ ছিলেন রিকি পন্টিং। কিন্তু এবার দায়িত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন—টিমের প্রস্তুতি, স্ট্র্যাটেজি, মানসিক দৃঢ়তা তৈরি, ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস জাগানো—সবকিছুই এখন তাঁর কাঁধে। তাঁর কথায়, “ক্রিকেটার আর কোচ—দু’টো সম্পূর্ণ আলাদা কাজ। ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে পারফর্ম করতে হত। আর কোচের কাজ মাঠের বাইরে। তবে ম্যাচ জেতাবে তো ক্রিকেটাররাই।”
যদিও কোচ হিসেবে তাঁর প্রথম ম্যাচ সুখকর হয়নি। জো’বার্গ সুপার কিংসের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই হেরে যায় প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস। কিন্তু সৌরভ হতাশ নন—বরং টিম নিয়ে প্রবল আশাবাদী। ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল প্রথম দুই ম্যাচে নেই, কারণ তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি লিগে ব্যস্ত। পরের ম্যাচেও তাঁকে পাবেন না সৌরভ। কিন্তু তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “রাসেল দু’টো ম্যাচ পর চলে আসবে। তখন টিমের শক্তি আরও বেড়ে যাবে।”
সৌরভের কোচিং দর্শনের মূল সুর—বিশ্বাস, ইতিবাচকতা ও দলগত ঐক্য। অনুশীলনে তিনি ক্রিকেটারদের বারবার বলেছেন, নিজেদের উপর আস্থা রাখতে এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও পজিটিভ থাকতে। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টি লিগ দীর্ঘ টুর্নামেন্ট, তাই দু-একটি ম্যাচ খারাপ যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেটিকে মাথায় নিয়ে বসে থাকলে চলবে না—বরং ভুলগুলো শুধরে পরের ম্যাচে ঝাঁপিয়ে পড়াই আসল মানসিকতা। তিনি বলেন, “সাফল্য তখনই আসবে, যখন আপনি টিম হিসাবে খেলবেন, একে অপরের সাফল্য উপভোগ করবেন। ক্রিকেট টিম গেম—সাফল্য পেতে হলে দলগত পারফরম্যান্সই আসল।”
সৌরভ মনে করেন, তাঁর দল যথেষ্ট প্রতিভাবান, পরিকল্পনামাফিক গড়া, এবং ভবিষ্যতে সাফল্যের সম্ভাবনাও প্রবল। রাসেলের মতো ম্যাচ-উইনার যুক্ত হলে সেই শক্তি আরও বহুগুণ বাড়বে। তবে শুধু তারকানির্ভর ক্রিকেটে তিনি বিশ্বাসী নন—টিমওয়ার্ক, পারস্পরিক বোঝাপড়া, এবং একসঙ্গে লড়াই করার মানসিকতাই তাঁর আসল অস্ত্র। “আমাদের টিম যথেষ্ট ভালো। আশা করছি, এই দল প্রচুর সাফল্য পাবে,” আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন ‘দাদা’।
প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের কোচ হিসেবে সৌরভের যাত্রা শুরুটা কঠিন হলেও, তাঁর ক্রিকেট-মস্তিষ্ক, নেতৃত্বগুণ, এবং দলকে মানসিকভাবে উজ্জীবিত করার ক্ষমতা তাঁকে নতুন ভূমিকাতেও আলাদা করে দিচ্ছে। ভারতীয় ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে যেমন আগ্রাসী পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছিলেন, কোচ হিসেবেও তিনি সেই বিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচকতার পথেই এগোচ্ছেন—এবার শুধু ব্যাট হাতে নয়, ক্রিকেটীয় কৌশলের দিক থেকেও ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 1 =