শ্রীলঙ্কাকে দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল নতুন বছর শুরু করেছে দাপুটে জয় দিয়ে। মঙ্গলবার তিরুঅনন্তপুরমে সিরিজ়ের শেষ ম্যাচ জিতে ভারত শুধু সিরিজ়ে আধিপত্যই দেখায়নি, বরং দলের গভীর আত্মবিশ্বাস ও একতা আরও দৃঢ় করেছে। মাঠের এই সাফল্যের রেশ নিয়েই নতুন বছরের প্রথম দিনে দলের বেশ কয়েক জন তারকা ক্রিকেটার উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দিরে হাজির হন। স্মৃতি মন্ধানা, শেফালি বর্মা, রেণুকা সিংহ ঠাকুর, স্নেহ রানা, স্নেহ রানা, রাধা যাদব, অরুন্ধতী রেড্ডি-সহ অন্যান্যরা সাধারণ ভক্তদের মতোই মন্দিরের মেঝেতে বসে প্রার্থনা ও পুজো দেন। মহাকালের আশীর্বাদ নিয়ে তাঁরা নতুন বছরে নতুন লক্ষ্য পূরণের শপথ নেন। এই দৃশ্য ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে এক অনন্য বার্তা দেয়—সাফল্যের পাশাপাশি বিনয়, আধ্যাত্মিক শক্তি ও মানসিক স্থিরতাও বড় ভূমিকা রাখে।
২০২৬ সালে ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের সামনে রয়েছে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সূচি। জানুয়ারিতে শুরু হবে ডব্লিউপিএল, যেখানে স্মৃতি মন্ধানা, শেফালি বর্মাদের মতো খেলোয়াড়রা নিজেদের ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির হয়ে খেলবেন। এই লিগ তাঁদের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা আরও ধারালো করবে এবং তরুণ প্রতিভাদের সামনে এগিয়ে আসার সুযোগ করে দেবে। ফেব্রুয়ারিতে দল যাবে অস্ট্রেলিয়া সফরে—যা নিঃসন্দেহে বছরের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলির একটি। সেখানে ভারত একটি টেস্ট, তিনটি এক দিনের এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। অস্ট্রেলিয়ার পিচ, আবহাওয়া ও প্রতিপক্ষের শক্তির সঙ্গে লড়াই করে ভালো ফল করলে দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়ে যাবে।
মে মাসে স্মৃতিরা উড়ে যাবেন ইংল্যান্ড সফরে। সেখানে তাঁরা তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবেন। এরপর ইংল্যান্ডেই অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, যেখানে ভারত ট্রফি জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে নামবে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর দল আবারও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক লর্ডস মাঠে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে—যা দলের অভিজ্ঞতা ও মর্যাদা দুটোই বাড়াবে।
এই বছর ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের জন্য শুধু ম্যাচ জেতার বছর নয়, বরং নিজেদের শক্তি, ধারাবাহিকতা, মানসিক দৃঢ়তা ও বিশ্বমঞ্চে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বছর। মহাকালের সামনে দাঁড়িয়ে নেওয়া শপথ তাই শুধু আধ্যাত্মিক নয়, এটি ক্রীড়াক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় লেখার দৃঢ় অঙ্গীকার।

