চিংড়িঘাটা মেট্রোয় নয়া জট, শঙ্কা শমীক ভট্টাচার্যের

কলকাতা : চিংড়িঘাটা মেট্রো সম্প্রসারণ প্রকল্প ঘিরে ফের আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে শঙ্কা প্রকাশ করলেন বিজেপি-র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

তিনি লিখেছেন, “শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়—এটি সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগের প্রশ্ন। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়ার পরও রাজ্য সরকারের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মেট্রো সম্প্রসারণ কোনো বিলাসী প্রকল্প নয়; এটি প্রতিদিনের যাতায়াত, কর্মসংস্থান, সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। হাজার হাজার নিত্যযাত্রী যানজট, দূষণ ও দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় এই প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে আছেন। সেখানে প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘসূত্রিতা এবং পিলার নির্মাণ করতে দিতে টালবাহানা প্রকল্পের গতি মন্থর করেছে—এ অভিযোগ আজ আর অমূলক নয়।

প্রশ্ন উঠছে

◆ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন বাস্তবায়নে গড়িমসি?

◆ কেন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সমন্বয়ের বদলে সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে?

◆ কেন সাধারণ মানুষের স্বার্থের চেয়ে প্রশাসনিক জটিলতা বড় হয়ে উঠছে?

দেশের অন্যান্য রাজ্যে যখন বৃহৎ রেল প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হচ্ছে, তখন পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা উদ্বেগের। একই কাজের জন্য আদালতকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হলে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই ইঙ্গিত দেয়।

সরকারের দায়িত্ব ছিল সমাধানের পথ খোঁজা, নাগরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং আদালতের নির্দেশ মেনে দ্রুত সমন্বয় সাধন করা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত যদি প্রকল্পকে আরও বিলম্বিত করে, তবে তার দায় সরকারের উপর বর্তায়।

উন্নয়ন কোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় নয়—এটি মানুষের অধিকার। চিংড়িঘাটা মেট্রো সম্প্রসারণ প্রকল্প দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হোক—এই দাবিই আজ কলকাতাবাসীর কণ্ঠে । জনগণের স্বার্থে প্রশাসনের উচিত আইনি টানাপোড়েন নয়, সমাধান ও সহযোগিতার পথ বেছে নেওয়া।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven − three =