বৃষ্টিতেই ভেসে গেল অজিদের স্বপ্ন, মাঠে না নেমেই সুপার এইটে জ়িম্বাবোয়ে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে অঘটনের নামই যেন অস্ট্রেলিয়া। একসময় যাদের ছাড়া কোনও আইসিসি টুর্নামেন্ট কল্পনাই করা যেত না, সেই তারকারা এবার মাঠে না নেমেই বিদায় নিলেন। বৃষ্টিভেজা এক বিকেলে শেষ হয়ে গেল মিচেল মার্শদের স্বপ্ন।
মঙ্গলবার পাল্লেকেলের ম্যাচ ছিল জ়িম্বাবোয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল বনাম আয়ারল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে টস পর্যন্ত করা গেল না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ম্যাচ রেফারি ডিন কসকার দুই অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলে ম্যাচ বাতিল ঘোষণা করেন। আর সেই ঘোষণাই কার্যত শেষ করে দেয় অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল-এর বিশ্বকাপ অভিযান।
সমীকরণটা পরিষ্কার ছিল। শ্রীলঙ্কার কাছে হারার পর অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্য নির্ভর করছিল জ়িম্বাবোয়ের পারফরম্যান্সের উপর। যদি জ়িম্বাবোয়ে আয়ারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার কাছে হারত, তাহলে শেষ ম্যাচে ওমানকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সুপার এইটে ওঠার সম্ভাবনা থাকত। কিন্তু বৃষ্টির কারণে জ়িম্বাবোয়ে-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ বাতিল হওয়ায় দুই দল এক পয়েন্ট করে পায়। তিন ম্যাচে জ়িম্বাবোয়ের পয়েন্ট দাঁড়ায় পাঁচ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া শেষ ম্যাচ জিতলেও সর্বোচ্চ চার পয়েন্টে পৌঁছতে পারত। ফলে গ্রুপের প্রথম দুইয়ে ওঠার সুযোগ আর থাকল না মার্শদের সামনে।
এর আগেই সোমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ ‘বি’ থেকে সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করে নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দল। পরপর দুই ম্যাচে জ়িম্বাবোয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে নিজেদের অবস্থান জটিল করে ফেলেছিল অসিরা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ছোট ভুলেরও বড় মূল্য দিতে হয়—এই বিশ্বকাপে সেই শিক্ষাই পেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
সবচেয়ে তাৎপর্যের বিষয়, এবারের বিশ্বকাপে এটাই প্রথম ম্যাচ যা বৃষ্টির কারণে বাতিল হল। কিন্তু সেই এক ম্যাচই বদলে দিল গ্রুপের চিত্র। মাঠে লড়াই নয়, প্রকৃতির খেয়ালেই নির্ধারিত হল একটি বড় দলের ভবিষ্যৎ।
ম্যাচ বাতিলের ঘোষণার পর জ়িম্বাবোয়ে শিবিরে শুরু হয়ে যায় উল্লাস। অধিনায়ক সিকন্দর রাজা ও তাঁর সতীর্থরা উদ্‌যাপনে মেতে ওঠেন। দীর্ঘদিন পর আইসিসি টুর্নামেন্টের সুপার এইটে ওঠা জ়িম্বাবোয়ের ক্রিকেটের জন্য বড় সাফল্য। সীমিত সম্পদ নিয়েও ধারাবাহিক লড়াই করে তারা প্রমাণ করল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনও দলকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই বিদায় নিঃসন্দেহে হতাশার। তারকাখচিত দলে অভিজ্ঞতা, শক্তি—সবই ছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ধারাবাহিকতা দেখাতে ব্যর্থ হওয়াই তাদের কাল হল। বৃষ্টিভেজা পাল্লেকেলের আকাশ যেন সাক্ষী থাকল—ক্রিকেটে সমীকরণ যতই সাজানো থাক, শেষ কথা বলে পরিস্থিতিই। আর সেই পরিস্থিতির শিকার হয়ে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল অস্ট্রেলিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × five =