গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘ্নিত এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে শেষ হাসি হাসল রাজস্থান রয়্যালস। নির্ধারিত সময়ে অঝোরে বৃষ্টি নামায় প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বে শুরু হয় খেলা। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ম্যাচ শুরু হতেই দর্শকদের অপেক্ষা সার্থক হয়, কারণ আকাশ পরিষ্কার হতেই মাঠে শুরু হয় রানের ঝড়। সেই ঝড় তুলেই পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ২৭ রানে হারাল রাজস্থান।
বৃষ্টির কারণে ম্যাচ কমিয়ে আনা হয় ১১ ওভারে। টস জিতে মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত যে বুমেরাং হয়ে দাঁড়াবে, তা হয়তো ভাবেননি তিনি। শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করতে নামেন রাজস্থানের দুই ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী এবং যশস্বী জয়সওয়াল। মাত্র ১৬ বলেই দলকে ৫০ রানে পৌঁছে দেন তারা, যা ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।
প্রথম ওভারেই ট্রেন্ট বোল্টের বলে ২২ রান তোলেন রাজস্থানের ব্যাটাররা। এরপর যশস্বী ও বৈভব মিলে একের পর এক বোলারকে চাপে ফেলতে থাকেন। এমনকি জসপ্রীত বুমরাহর মতো বিশ্বমানের বোলারকেও রেয়াত করেননি তারা। বুমরাহর প্রথম ওভারেই জোড়া ছক্কা হাঁকান বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৪ বলে ৫টি ছক্কা মেরে ৩৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি।
অন্যদিকে, যশস্বী জয়সওয়াল ছিলেন আরও ভয়ংকর। ৩২ বলে ৭৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসে তিনি মুম্বইয়ের বোলিং আক্রমণকে সম্পূর্ণভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেন। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক চার ও ছক্কার মার, যা রাজস্থানকে শক্ত ভিত গড়ে দিতে সাহায্য করে। দুই ওপেনারের এই দুরন্ত পারফরম্যান্সের জোরে নির্ধারিত ১১ ওভারে ১৫০ রানের বিশাল স্কোর তোলে রাজস্থান রয়্যালস।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। প্রথম ওভারেই উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় তারা। রিকলটন দ্রুত আউট হয়ে যান, আর সূর্যকুমার যাদব ও রোহিত শর্মাও প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হন। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে চাপের মুখে পড়ে টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে। মাত্র ৪৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় মুম্বই।
এরপর রাদারফোর্ড ও নমন ধীর জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। দুজনেই ২৫ রান করে দলকে কিছুটা এগিয়ে নিলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তাঁদের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই মুম্বইয়ের শেষ আশা ভেঙে যায়। শেষদিকে শার্দূল ঠাকুর কিছু লড়াই করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
শেষ পর্যন্ত ১১ ওভারে ১২৩ রানেই থেমে যায় মুম্বইয়ের ইনিংস। ফলে ২৭ রানের জয় তুলে নেয় রাজস্থান রয়্যালস। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে শুরুতে ধাক্কা খেলেও ব্যাট হাতে দুরন্ত পারফরম্যান্সের জোরে রাজস্থানই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে এবং গুরুত্বপূর্ণ জয় ছিনিয়ে নেয়।

