ইরানে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হামলার জেরে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে। সেই অস্থিরতার মধ্যেই দুবাই বিমানবন্দরে আটকে পড়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন ভারতের তারকা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু। অল ইংল্যান্ড ওপেন ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় খেলতে যাওয়ার পথে তিনি দুবাইয়ে নামেন। কিন্তু ইরানে হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানেই আটকে পড়েন সিন্ধু ও তাঁর কোচ।
সমাজমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সিন্ধু লেখেন, পরিস্থিতি প্রতি ঘণ্টায় আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। কয়েক ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরের যে জায়গায় তাঁরা আশ্রয় নিয়েছিলেন, তার কাছেই একটি বিস্ফোরণ ঘটে। সিন্ধুর কথায়, তাঁর কোচ ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষের একেবারে কাছে ছিলেন। বিপদের আশঙ্কায় তাঁকে দ্রুত দৌড়ে সেই এলাকা ছাড়তে হয়। এই অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘চরম আতঙ্কের মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন।
যদিও আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি, তবু বর্তমানে তাঁরা নিরাপদ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিন্ধু। তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং দুবাই প্রশাসনকে। তাঁদের তৎপরতায় সিন্ধু, তাঁর কোচ এবং অন্য যাত্রীরা আরও সুরক্ষিত জায়গায় আশ্রয় পেয়েছেন। পাশাপাশি, দুবাইয়ের ভারতীয় হাই কমিশন-এর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। নিরন্তর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সিন্ধু লেখেন, আপাতত কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ মিলেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশায় রয়েছেন।
এই ঘটনার জেরে সিন্ধুর প্রতিযোগিতামূলক সূচিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়ার কথা অল ইংল্যান্ড ওপেন। ভারত থেকে দুবাই হয়ে ইংল্যান্ডের বার্মিংহ্যামে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু শনিবার দুবাই পৌঁছনোর পরই আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যায়। সমস্ত বিমান বাতিল করা হয়েছে, ফলে কবে তিনি ইংল্যান্ডে পৌঁছতে পারবেন, তা এখনও জানা যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে শুধু সিন্ধু নন, সমস্যায় পড়েছেন আরও অনেক ক্রীড়াবিদ। ভারতের বাস্কেটবল দল দোহায় আটকে রয়েছে। বিশ্বকাপের এশীয় যোগ্যতা অর্জন পর্ব খেলে ফেরার পথে তারা দেশে ফিরতে পারছে না। একই সঙ্গে সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। হজ করতে মক্কা গিয়েছিলেন তিনি। ফেরার পথে দুবাই হয়ে দেশে ফেরার কথা থাকলেও বিমান বাতিল হওয়ায় এখন জেড্ডায় আটকে রয়েছেন বলে নিজেই সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন।
পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থিরতা ক্রীড়াজগতের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের জীবনেও বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।

