কলম্বোর আর প্রেমদাসা স্টেডিয়াম-এ ভারতীয় বোলারদের দাপটে কার্যত একতরফা হয়ে উঠল মহারণ। ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। টসে জিতুক বা হারুক, সূর্যদের জয়ের পরিসংখ্যান বদলায় না। পাক অধিনায়ক সলমন টসে জিতে আশা করেছিলেন, রান তাড়া করা তুলনায় সহজ হবে। বাস্তবটা যে কতটা কঠিন, তা প্রথমে বোঝালেন ঈশান কিষান। পরে জশপ্রীত বুমরাহ-অক্ষর প্যাটেলরা। কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামের স্লো, স্পিন-সহায়ক পিচে ১৭৬ রান তাড়া করা মানে যে পাহাড়প্রমাণ চাপ মাথায় নেওয়া, সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝলেন বাবর আজমরা। ম্যাচের প্রথম ওভারে অভিষেক শর্মার উইকেট তুলে সেলিব্রেশনে মেতেছিলেন সলমনরা। আর শেষে এসে শুধুই হতাশা। ঠিক এশিয়া কাপের তিনটে ম্যাচের মতো। ভারত যে শুরুতেই ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে তুলে নেবে, তার আভাস মিলেছিল প্রথম ওভারেই।
ভারতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারে অভিষেক শর্মাকে ফিরিয়েছিলেন পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। তারই যেন যোগ্য জবাব দিলেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। নিজের প্রথম ওভারেই তিনি ফেরান শাহিবজাদা ফারহানকে। হার্দিকের বল ব্যাটের কানায় লেগে সোজা চলে যায় রিঙ্কু সিং-এর হাতে। প্রথম ধাক্কাতেই নড়বড়ে পাকিস্তান।
এরপর মঞ্চে আবির্ভাব জসপ্রীত বুমরাহ-র। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই সাইম আয়ুব তাঁকে বাউন্ডারি মারেন। কিন্তু পরের বলেই জবাব—এলবিডব্লিউ আয়ুব (৬)। একই ওভারে ফেরেন অধিনায়ক আঘাও। বুমরাহর বল তুলে দেন হার্দিকের হাতে। মাত্র ৪ রানে সাজঘরে ফিরতেই ৩ উইকেটে বড় চাপে পড়ে পাকিস্তান।
চাপের মধ্যেই কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন বাবর আজম। কিন্তু তাঁকেও বেশি দূর যেতে দেননি অক্ষর প্যাটেল। ৫ রানেই বোল্ড বাবর। ৩৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভারতের হাতে চলে যায়। সেখান থেকে কিছুটা মরিয়া মনোভাব দেখিয়েছিলেন উসমান খান। কিন্তু তা যেন একা কুম্ভের লড়াই। কারণ বিপরীতে শাদাব খান, মহম্মদ নওয়াজরা মাঠে আসা ও ড্রেসিংরুমে ফেরার ধারা বজায় রেখেছিলেন। তিলক বর্মা ফেরালেন শাদাবকে এবং কুলদীপের শিকার নওয়াজ।
অষ্টম ওভারে ৫০ পেরোয় পাকিস্তান। ৮ ওভারে ৫৭/৪। উসমান খান তখন ৩১ রানে অপরাজিত, সঙ্গী শাদাব খান। ১০ ওভারের শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৭১—ভারতের ৯২ রানের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে। স্পিন আক্রমণে লাগাতার চাপে রাখছিলেন কুলদীপ যাদব ও বরুণ চক্রবর্তী।
১১তম ওভারে আসে বড় সাফল্য। অক্ষরের বলে স্টাম্পিং হন উসমান (৩১)। উইকেটের পিছনে নিখুঁত কাজ ঈশান কিষান-এর। ৭৩/৫ হয়ে যায় পাকিস্তান। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। তিলক বর্মা বল হাতে চমক দেখিয়ে ১৪ রানে শাদাবকে ফেরান। এরপর বরুণ চক্রবর্তীর জোড়া আঘাতে ফাহিম (১০) ও আবরার (০) ফিরতেই ১০০-র আগেই ৯ উইকেট পড়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারও পূর্ণ করতে পারেনি পাকিস্তান। ৬১ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত। ব্যাট হাতে ৭৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস এবং উইকেটের পিছনে দারুণ পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন ঈশান কিষান। শুরুতে ঝড়, পরে শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং—সব মিলিয়ে বিশ্বমঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে আরেকটি স্মরণীয় জয় তুলে নিল টিম ইন্ডিয়া।

