৬ উইকেট পেল পেসাররা, তবু রনজি কোয়ার্টারে দুশ্চিন্তা বাংলার !

রনজি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম দিনে পেস আক্রমণ ঝলসে উঠলেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি বাংলার শিবিরে। কল্যাণীর উইকেটে চাপ সামলে অন্ধ্রপ্রদেশ ৬ উইকেট হারিয়ে তুলে নিল ২৬৪ রান—যা দ্বিতীয় দিনের আগে বাংলার চিন্তা বাড়িয়েই রাখল।
প্রথম দিনে বাংলার হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন মুকেশ কুমার। নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথে বল করে তিনি তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাঁকে ভালো সঙ্গ দেন আকাশ দীপ, যাঁর ঝুলিতে আসে ২টি উইকেট। মহম্মদ শামিও পান একটি সাফল্য। তবে পেসারদের এই সাফল্যের মাঝেও অন্ধ্রপ্রদেশকে দ্রুত গুটিয়ে দেওয়া যায়নি, সেটাই বাংলার দুশ্চিন্তার বড় কারণ।
টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলার অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ। শুরুতে কল্যাণীর পিচে কিছুটা সহায়তা থাকলেও, ম্যাচ যত এগোবে উইকেট ততই ধীরে ধীরে ব্যাটিং-বান্ধব হয়ে উঠবে—এ কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। কারণ পরে এই উইকেট ব্যাটারদের স্বর্গে পরিণত হলে চার পেসারের কৌশল যে বিপদ ডেকে আনতে পারত, তা ভালোভাবেই জানত বাংলা শিবির।
ম্যাচের প্রথম ঘণ্টায় কোনও উইকেট না পড়ায় কিছুটা হতাশা তৈরি হলেও, সেই চাপ ভাঙেন আকাশ দীপ। তিনি ফেরান অভিষেক রেড্ডিকে। এরপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট আসতে শুরু করে। মুকেশ কুমার ফিরিয়ে দেন সাইক রশিদকে, শামির শিকার হন চেঙ্গালপেট জ্ঞানেশ্বর। তবে একপ্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান অভিজ্ঞ রিকি ভুঁই। তাঁর দৃঢ় ৮৩ রানের ইনিংসেই অন্ধ্রপ্রদেশ ২৫০ রানের গণ্ডি টপকে যায়।
রিকি ভুঁইয়ের উইকেটটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। আকাশ দীপের বলে তাঁর ক্যাচ নেওয়ার পর শাহবাজ আহমেদের উচ্ছ্বসিত সেলিব্রেশনই বলে দিচ্ছিল, এই সাফল্য বাংলার কাছে কতটা জরুরি। এরপর নীতীশ কুমার রেড্ডিকেও ফেরান মুকেশ কুমার। ভারতীয় টেস্ট দলে নিয়মিত সুযোগ পাওয়ার যে আলোচনা চলছে, রনজিতে ধারাবাহিক ব্যর্থতায় তা আরও প্রশ্নের মুখে পড়ল। এদিন তিনি ফেরেন মাত্র ৩৩ রানে।
প্রথম দিনের শেষে অন্ধ্রপ্রদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ২৬৪। দ্বিতীয় দিনে বাংলার প্রধান লক্ষ্য থাকবে দ্রুত বাকি চার উইকেট তুলে নেওয়া। অতীতে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের কাছে বারবার ভুগেছে বাংলা—এবার সেই ভুল আর করা চলবে না। অন্ধ্রপ্রদেশকে দ্রুত অলআউট করতে পারলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যাবে অভিমন্যু ঈশ্বরণ ও অনুষ্টুপদের হাতে। নাহলে গ্রুপ পর্বে প্রথম হওয়া সত্ত্বেও আর একবার হতাশাই সঙ্গী হবে বাংলার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − six =