কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে ড্রয়ের পর ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুঁজোর বিরুদ্ধে ‘গো ব্যাক অস্কার’ স্লোগান উঠেছিল যুবভারতী জুড়ে। আইএসএলের শুরুটা ভালো হলেও প্রথম দুটো ম্যাচের পর হোঁচট খেয়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। কেরালা ম্যাচে অস্কারের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্ষুব্ধ সমর্থকরা কোচ বদল চাইছেন। এদিকে কেরালা ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে ক্লাব কর্তাদের ইঙ্গিত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন অস্কার। অস্কার ব্রুজোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। সম্ভবত লাল-হলুদ কোচের বিদায় আসন্ন। কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে সোমবারই বৈঠকে বসতে চলেছেন ইমামি ও ক্লাব কর্তারা। সোমবার অথবা মঙ্গলবার অস্কারকে নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। এই বিষয়ে প্রাক্তনীদের একাংশ অবশ্য মনে করছে, কোচ অস্কারই ফোকাস নষ্ট করছে দলের। লাল-হলুদ প্রাক্তনী মেহতাব হোসেন ও সন্দীপ নন্দী দলের এই পারফরম্যান্সের জন্য কোচ অস্কারকেই দায়ী করছেন।
মেহতাব হোসেন জানান, ইস্টবেঙ্গলের মতো সমর্থক ভরা ক্লাবে ট্রফি ও ভালো ফুটবল খেলা দেখে। ট্রফি দিতে না পারলে সে যত বড়ই কোচ হন না কেন, সরে যেতে হবে। ক্লাবের আগে কেউ নন। তিনি বলেন, “অবশ্যই ম্যানেজমেন্ট ঠিক করবে কোচ থাকবে কি না। কোচের কাজ খুবই কঠিন, আজ ভালো ফলাফল দিতে না পারলে কাল সরে দাঁড়াতে হবে। হাতে খুব ভালো দল রয়েছে, তাও এই ধরনের ফলাফল হতাশাজনক।”
মেহতাবের সমসাময়িক আর এক প্রাক্তনী রহিম নবী অবশ্য মনে করছেন, কোচ অস্কারের নিজেরই পদত্যাগ করা উচিত। রহিম নবী বলেন, “অস্কারের মন কি বলছে না যে, ওনার যা পারফরম্যান্স উনি নিজে থেকে বেরিয়ে চলে যাবেন। আগের সময় হলে ওনাকে স্টেডিয়াম থেকে বাইরে ভিআইপি রোডেই বের করে দিয়ে আসা হত। জীবনে ফুটবল খেলে থাকলে এখনই ফুটবল ছেড়ে দেওয়া উচিত।”
ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন গোলকিপার কোচ সন্দীপ নন্দী কড়া ভাষায় অস্কারের সমালোচনা করেছেন। পাঁচ মাস আগে সুপার কাপ চলাকালীন অস্কারের সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই ইস্টবেঙ্গল ছাড়তে হয় সন্দীপ নন্দীকে। তিনি বলেন, “ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের ক্ষোভ-হতাশা বুঝতে পারছি। পাঁচ মাস আগে যখন আমি বলেছিলাম তখন লোকে আমাকে খারাপ ভেবেছিল। উনি এত বড় কোচ নন, যে এই দলকে সাফল্য এনে দেবে। এটা সোনায় মোড়া দল। শুধু ইস্টবেঙ্গল নন, ওনার দেশ ছেড়ে যাওয়া উচিত।”

